বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে ৯ম দল হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফগানিস্তান। ফলে শেষ টিকিটের জন্য লড়াই এখন তুঙ্গে। ১০ম ও শেষ দল হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে ওঠার সমীকরণে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাবে। তবে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দলের মধ্যে থাকায় আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী ৯ম স্থানে থাকা দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরাসরি কোয়ালিফাই করার সুযোগ পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নির্ধারিত ৩০শে সেপ্টেম্বর কাট-অফ সময়ের মধ্যে এই র‌্যাঙ্কিং চূড়ান্ত করা হবে। সেই হিসাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের হাতে সময় আছে মাত্র ১ মাস ২২ দিন। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ সুবিধাজনক ৯ম স্থানে অবস্থান করলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে ঠিক পেছনে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বিপক্ষে ৩টি ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ক্যারিবিয়ানরা। ওই সিরিজে ভালো ফল করলে তারা বাংলাদেশের পয়েন্ট টপকে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারে সহজেই। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ভারতের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয়, তবে তারা বড় অঙ্কের রেটিং পয়েন্ট বোনাস হিসেবে পাবে। এর ফলে তারা বাংলাদেশের সংগৃহীত ৮৩ পয়েন্টকে টপকে সরাসরি ৯ম স্থানে উঠে আসবে। এমনকি ক্যারিবিয়ানরা যদি ২-১ ব্যবধানেও সিরিজ জেতে, তাহলেও তাদের রেটিং পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে, যা বাংলাদেশকে সরাসরি মূল পর্বে খেলার দৌড় থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ভারতীয়দের কাছে ৩-০ বা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে যায়, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট কমে যাবে অথবা অপরিবর্তিত থাকবে।

এমনটি হলে মাঠের খেলায় কোনো ম্যাচ না খেলেই বাংলাদেশ সুবিধাজনক ৯ম স্থান ধরে রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। অন্যদিক থেকে ভিন্ন এক জটিলতা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে খেলার কথা থাকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের ভেন্যু ও সময়সূচি নিয়ে। পূর্বনির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেশের মাঠে আয়োজন করার সূচি পূর্বেই চূড়ান্ত হয়ে আছে। সেই সূচি অনুযায়ী সফরকারী ভারতীয় ক্রিকেট দলের আগামী ২৮শে আগস্ট ঢাকায় পা রাখার কথা। ওয়ানডে ম্যাচগুলো যথাক্রমে ১, ৩ ও ৬ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক কথা রয়েছে। তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ এই সফরটি বর্তমানে পুরোপুরি স্থগিত করে ‘অন হোল্ড’ অবস্থায় রেখে দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এখন নিজ দেশের সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিবেশী দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। এর ওপর ভিত্তি করে সিরিজের নতুন আয়োজন নিশ্চিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভারতের বোর্ড প্রধানের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে পূর্বনির্ধারিত ওই সফরের দ্রুত বাস্তবায়ন ও নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি সর্বোচ্চ পর্যায় অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে এই মেগা সিরিজটি সফলভাবে আয়োজন করার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।

কারণ লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার মূল ভাগ্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে ভারতের এই বাংলাদেশ সফরের ওপর। যদি ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ শেষ পর্যন্ত না পাওয়া যায় এবং একই সময়ে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানরা সিরিজ জিতে ফেলে, তবে বাংলাদেশকে পরবর্তীতে বাছাইপর্বের কঠিন ও অনিশ্চিত বাধা পার হয়ে মূল মঞ্চে আসতে হবে। আর তাই স্বাগতিকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত এই রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে ভারত দলের সফরটি নিশ্চিত করা। নতুবা সমীকরণ কঠিন হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন