এশিয়ার মঞ্চে প্রথমবারের মতো পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব। এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে গতকাল জর্ডানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে দলটি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আম্মানের পথ ধরে ৩৩ সদস্যের বহর। ১১ই আগস্ট আম্মানের কিং দ্বিতীয় আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ আল ইত্তিহাদ আহলি। যারা সিরিয়ান লীগের ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন। ১০ বার সিরিয়ান কাপ জয়ী দল। তাদের বিপক্ষে মাঠে নামছে পুলিশ। বাংলাদেশ ফুটবল লীগের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেডের খেলার কথা ছিল এই আসরে। কিন্তু দুই দলই এএফসির নিষেধাজ্ঞায় থাকায় টিকিট চলে আসে তৃতীয় হওয়া ফর্টিস এফসি ও চতুর্থ হওয়া পুলিশ এফসির হাতে।
ঘরোয়া লীগে চতুর্থ হয়েই তাই আন্তর্জাতিক আসরের দরজা খুলে গেল পুলিশের সামনে। গত মৌসুমের একজন বিদেশিকে ধরে রেখে নতুন করে দল সাজিয়েছে পুলিশ। সৌদি লীগে খেলা সেনেগালিজ স্ট্রাইকার রসুলবা, মালয়েশিয়ান লীগ থেকে আসা ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার, উগান্ডা জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শফিক তাগিমো, গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সলোমন কিং ও মিডফিল্ডার ফাদো দার্বে- সবমিলিয়ে বেশ শক্তিশালী বিদেশি লাইনআপ গড়েছে ক্লাবটি। আছেন একজন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারও। স্থানীয়দের মধ্যে পিডব্লিউডি থেকে আকাশ, রহমতগঞ্জ থেকে আরাফাত, বসুন্ধরা কিংস থেকে জাহিদ ও নয়নের মতো পরিচিত মুখও যোগ হয়েছে দলে। ১০ই জুলাই থেকে অনুশীলন শুরু করে ফর্টিসের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে দলটি। পুলিশ এফসির প্রধান কোচ আসিফুজ্জামান প্রতিপক্ষের শক্তি মূল্যায়ন করে বলেন, ‘সিরিয়ার ফুটবল আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তারা অল্পের জন্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। প্রস্তুতি ম্যাচে সিরিয়া ০-১ গোলে হেরেছিল মরক্কোর কাছে। এই দেশের ক্লাব টিমও শক্তিশালী। এরপরও আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কারণ নির্দিষ্ট দিনে ৯০ মিনিটের ম্যাচে যে ভালো করবে তারাই জিতবে। তাই আমাদের জয়ের সম্ভাবনা কম থাকলেও ১১ তারিখে ভালো খেলেই গ্রুপ পর্বে উন্নীত হতে চাই।’ প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে কোচের ব্যাখ্যাও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতে ক্যালেন্ডার থাকে। ধরেন বাংলাদেশে লীগ শেষ হয়ে গেল মে মাসে, তারপর আর কোনো টিমের খেলা নেই- সো অফ সিজন। দেড়-দুই মাস অফ সিজন থাকে, প্লেয়াররা আউট অফ ট্রেনিং থাকে। ওই সমস্ত ক্লাব লীগ শেষ হওয়ার পরও একটা শর্ট ব্রেক দিয়ে আবার ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে ট্রেনিংয়ে চলে যায়। আমি শুধু এই জায়গাটার ডিফারেন্স বলছি।’ আত্মবিশ্বাসের সুর ইসা ফয়সালের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু অনেক ভালো টিম এবং ওরা সিরিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন পর পর তিনবার, ওদের মান ভালো। কিন্তু আমরা চেষ্টা করবো আমাদের এই কয়দিনের প্রস্তুতি এবং জুনিয়র-সিনিয়র পুলিশ এফসি ও ফরেন প্লেয়ার মিলিয়ে, আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে- ইনশাআল্লাহ্ স্বাভাবিক খেলা খেললে আমরা ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারবো।’ প্রথমবারের মতো এশিয়ান কোনো ক্লাব আসরে খেলার গৌরব অর্জন করে এখন তাদের লক্ষ্য মাঠের লড়াইয়েও চমক দেখানো। ১১ই আগস্ট আম্মানের সেই ম্যাচেই বোঝা যাবে, প্রতিকূলতা পেরিয়ে কতোদূর যেতে পারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
