একাকীই শুরু করেছিলেন আবর্জনা সংগ্রহের কাজ। হিউস্টনের দক্ষিণাঞ্চলে অবৈধভাবে ফেলা আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন। তবে এখন আর তিনি একা নন। সঙ্গে জুটেছে আরো অনেকে। তার কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে সঙ্গে যোগ দেন আরো ১০০ জন। অ্যান্ডু বিভার ৩৭ বছরের তাগড়া যুবক। জীবনের অর্থ তিনি খুঁজে পেয়েছেন পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার মাধ্যমে। যদিও তার অভিজ্ঞতাই ছিলো না কোন প্রতিষ্ঠান চালানোর। এখন তার ‘ক্লিন দ্য ব্লক’ সংগঠনটি আশেপাশের চারিদিক পরিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত। অ্যান্ডু বলেন, আমি বড় হবার পথে সবসময় ভেবেছি আবর্জনা খুবই বাজে একটি বস্তু। এটির পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা উচিত আমাদের।
সম্প্রতি সানিসাইড এলাকায় এক পরিষ্কার কর্মসূচি অভিযান পরিচালিত হয় তার দলের। এতে অংশ নেন প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক । তারা ওয়াকিটকি নিয়ে, ভারী গ্লাভস পরে সংকীর্ণ স্থানগুলোর ময়লাও পরিষ্কার করছিলেন। স্থানীয় ‘সোলে টাইস রান ক্লাব’ নামের একটি দৌড়বিদ দলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দ্রুত পরিচিতি পায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। স্বেচ্ছাসেবকরা দলবদ্ধ হয়ে হাঁটার রাস্তা, গলি, খাল এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলো পরিষ্কার করছেন।
তাদের সংগ্রহ করা বিশাল পরিমাণ বর্জ্য সরাতে বড় ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। ফলে এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করা কঠিন হলেও বর্তমানে হিউস্টন সিটি কাউন্সিল তাদের লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। একই সাথে বড় বর্জ্য সরানোর জন্য বিশেষ ‘হট টিম’ পাঠাচ্ছে তারা। এ ধরনের জরুরি পরিচ্ছন্নতা দলের জন্য হিউস্টনের প্রতিটি জেলা বছরে হাজার হাজার ডলার খরচ করছে।
অন্যদিক অবৈধ ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্য, গোপন ক্যামেরা এবং অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বর্জ্য ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এতে জরিমানা থেকে শুরু করে জেল পর্যন্ত হতে পারে। সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিভার তার প্রতিদিনের এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
