আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্কে ওবায়দুল কাদের-সাদ্দাম হোসেনের একটি কল রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছেন। মামলাটির পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৯ই আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ই জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে এই ফোনালাপ হয়েছিল। উপস্থাপিত ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলো ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং সমন্বিতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর সমন্বয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং ওয়ালি আসিফ ইনানকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা সবাই পলাতক।
সাবেক ভিসি মাকসুদ ও জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষক কে এম জামাল উদ্দিন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রসিকিউশন জানায়, উক্ত প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন, তথ্য-উপাত্ত ও আইনগত দিক যাচাই-বাছাই শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
