সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত এ বিষয়ে জারি করা রুল আংশিকভাবে চূড়ান্ত (অ্যাবসোলিউট) করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট দায়ের করে।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে আহত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য নির্দেশনা জারির আদেশ কেন দেওয়া হবে না এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে নাÑ তা জানতে চাওয়া হয়।
রিটের শুনানিতে এইচআরপিবি’র পক্ষে সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ঘটনা বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা অনেক সময় নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা পান না। অথচ এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময় সব ধরনের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার অঙ্গীকার করেই লাইসেন্স গ্রহণ করে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু ঘটে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আগে হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় নতুন করে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
রায়ে আদালত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন নাকচ করেন। আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল তাদের জবাবে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের দাবি করেছে। এছাড়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত প্রয়োজন, যা বিদ্যমান আইনের আওতায় নির্ধারণ করা সম্ভব। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রচলিত আইনের অধীন ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
রিটের পিটিশনার ছিলেন এডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও এডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম। বিবাদীদের মধ্যে ছিলেন- স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি, ডিএমপি কমিশনারসহ মোট ১২ জন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও এডভোকেট নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন- এডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম এবং সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।
