হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে মূল্যবান সেগুন গাছ চুরির ঘটনায় পাঁচ বনকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত আরও ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই নির্দেশ জারি করা হয়।
এর আগে গত ১৬ই জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বনকর্মীরা হলেনÑ সাতছড়ি রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ, তেলমাছড়া বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নুর মোহাম্মদ, ফরেস্ট গার্ড সুমন বিশ্বাস এবং বাগান মালী শেখ আহমেদ। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ২০ থেকে ২৫টি মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাটির তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে তা বন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
গোপনীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ‘খ’ তালিকায় থাকা বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মোকদ্দমা রুজু করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ চুরির ঘটনায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বনজ সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব আইন অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
