১৯১৩ সালের ‘পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট’-এর অধীনে মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড থেকে কর্মীদের মুনাফার বকেয়া আদায়ের সরকারি সিদ্ধান্তর্ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পিটিশনগুলোর ওপর শুনানি শেষে এই রায় দেন।
মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মো. মোরশেদ আর শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ওমর সাদাত, ব্যারিস্টার আবির আব্বাস চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর ফয়সাল এবং সরকারের পক্ষে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, এই রায়ের ফলে সার্টিফিকেট প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া বা কর্মীদের বকেয়া আদায়ের জন্য সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
কোম্পানির শ্রমিকদের করা একটি রিট পিটিশন থেকে, যেখানে তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৩৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল যে, মেঘনাঘাট পাওয়ার আইন অনুযায়ী তার বার্ষিক নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ জুন, হাইকোর্ট ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য কোম্পানির বার্ষিক নিট মুনাফায় শ্রমিকদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। কোম্পানিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে, কিন্তু ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আপিলটি খারিজ হয়ে যায়। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর, সরকার কোম্পানিকে শ্রমিকদের তাদের আইনসম্মত মুনাফার অংশ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়।
