সিলেটে ঘাতক জাকিরের ফাঁসি

৪ বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

সিলেটে ঘাতক জাকিরের ফাঁসি

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার চার মাসের মাথায় গতকাল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে ঘাতক জাকিরের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার রায়ে লাশ গুমের ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় ঘাতক জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, দুই আসামিকে খালাস দেয়ায় অসন্তোষ জানায় নিহত ফাহিমার পরিবার। গতকাল দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। চার বছরের শিশু নিহত ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।

গত ৬ই মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরে ৮ই মে পাশের বাড়ির পুকুর পাড় থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এতে ক্ষোভ বাড়ে এলাকায়। ঘাতকের গ্রেপ্তার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়। করা হয় প্রতিবাদ সমাবেশও। এ অবস্থায় ঘটনার দু’দিনের মাথায় পুলিশ ঘাতক জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির ফাহিমাদের বাড়ির পাশের বাসিন্দা। তার পিতার নাম তোতা মিয়া। সে বিবাহিত ও সন্তানের জনক। গ্রেপ্তারের পর জাকির আহমদ ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। সে জানিয়েছিল, ৬ই মে দুপুরের দিকে ফাহিমা খেলার ছলে তাদের বাড়িতে এসেছিল। এ সময় সে সিগারেট নিতে ফাহিমাকে দোকানে পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পর জাকিরের তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। একপর্যায়ে সে ফাহিমাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে। লাশ গুম করতে প্রথমে ব্যাগে ভরে ঘরের খাটের নিচে রাখে। দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির ঝোপে রাখে। আরও বেশি দুর্গন্ধ ছড়ালে সে লাশ পাশের বাড়ির পুকুর পাড়ে ফেলে আসে। এদিকে, এ ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জাকিরের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে জাকিরের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা আগুনও দেয়।

এ ঘটনার মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর গত জুন মাসের প্রথম দিকে জাকির ও তার দুই ভাইকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। মামলার বিচার কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার পর গতকাল আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে মহানগর পিপি বদরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জাকির হোসেন। অপর দুই আসামি ছিলেন তার ভাই জয়নাল আবেদিন ও মো. আবুল কালাম। আদালত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ আদালতের অনুমোদনের পর এই দণ্ড কার্যকর হবে। তিনি বলেন, জাকির হোসেনের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার। ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন