টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চুনারুঘাটে ভেঙে পড়ছে সেতু

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চুনারুঘাটে ভেঙে পড়ছে সেতু

ফন্ট সাইজ:

টানা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজারবাজার খোয়াই সেতুসহ ছোট-বড় ২০টি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার রাজারবাজার খোয়াই সেতুর পশ্চিম অংশে মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রামগঙ্গা, সাতছড়ি, সাতছড়ি টিপরাপল্লী, রানীগাঁও, চাকলাপুঞ্জি, ঘনশ্যামপুরসহ অন্তত ২০টি সেতু রয়েছে হুমকিতে। এ ছাড়া, গ্রামীণ রাস্তায় বহু কালভার্টের দুই পাশের মাটি সরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত দুইদিন আগে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে উপজেলার দক্ষিণে পাহাড়ি ত্রিপুরা রাজ্যেও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে ভারত থেকে প্রবাহিত খোয়াই নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২০ সে.মি. উপরে চলে যায়। পানির তোড়ে রাজারবাজারে খোয়াই ব্রিজের পশ্চিম অংশে মাটি ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এদিকে, অতি বৃষ্টিতে চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের জোসনা কর্মকারসহ নানা স্থান কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খোয়াই নদীর ভাঙনে নালমুখ বাজার এলাকায় হরিজনপাড়াটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। গত শুক্রবার খোয়াই নদী থেকে পানি কমতে শুরু করায় ভেঙে পড়ছে নদীর পাড়। ইতিমধ্যে চেকানগর, বড়ঝুম, সুনাচং, ছনখলা, বনগাঁও, কাকাউশ, রাজারবাজার, নালমুখসহ ২০টি স্থানে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার বিগত ১৫ বছর ধরে নদী ও ছড়ার বালু লিজ দিয়ে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী সেতু ও নদী ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরজমিন পরিদর্শন করে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত সেতু-পুল মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন ও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগানসহ বিভিন্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন