কুষ্টিয়া কারাগার ভেঙে পালানোর দুই বছর: হদিস নেই ১৫ বন্দির

কুষ্টিয়া কারাগার ভেঙে পালানোর দুই বছর: হদিস নেই ১৫ বন্দির

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সংঘটিত দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত বন্দি পলায়নের ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি পলাতক ১৫ বন্দিকে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হত্যা মামলার আসামি, জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি ও কিশোর গ্যাং লিডার সজীব শেখ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার দাবি থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তাকে গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ই আগস্ট দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে জামিনপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্দির মুক্তির প্রক্রিয়া চলাকালে প্রধান ফটকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে একদল বন্দি সংঘবদ্ধ হয়ে প্রধান ফটক ভেঙে পালিয়ে যায়। বর্তমান জেলসুপার মো. শরিফুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় মোট ১০৫ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এ সময় তিনজন কারারক্ষী আহত হন। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কারা সূত্রের দাবি, পলায়নের সময় ভেতরে থাকা বন্দিদের সংগঠিত করার নেতৃত্বে ছিলেন হত্যা মামলার আসামি সজীব শেখ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত আলোচিত একটি হত্যাকাণ্ডে লাশ ৯ টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন। সেই মামলার অন্যতম আলোচিত আসামি হওয়া সত্ত্বেও দুই বছর ধরে তিনি অধরাই রয়ে গেছেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। ২০২৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা থেকে ২৫ মামলার আসামি সামিরুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আরও অনেককে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সজীব শেখসহ ১৫ জন এখনও পলাতক। বর্তমান জেলসুপার মো. শরিফুল আলম জানান, পালিয়ে যাওয়া ১০৫ বন্দির মধ্যে ৯০ জনকে আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৮ জন জামিন অথবা খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ওই ঘটনায় ফিরে আসা বন্দিদের মধ্যে ১২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৫ জন এখনও পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে।

তবে দুই বছরেও পলাতকদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও সমাজসেবক কাজল মাজুমদার বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছে বা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা আইনের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু এখনও যে ১৫ জন পলাতক রয়েছে, তাদের বিষয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা জরুরি। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দুই বছর পার হওয়ার পরও পলাতক আসামিদের বাইরে থাকা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইসিটি বিভাগের সহায়তায় তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন