নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন আতঙ্ক

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারো স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। সবশেষ গত ২৯শে জুলাই দুপুরে উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল করিম (২৫)-এর বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সূত্র জানায়, জারুলিয়াছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় স্থলমাইনে বিস্ফোরণের শিকার হন আব্দুল করিম। বিস্ফোরণের পর তার সঙ্গে থাকা অন্যরা নিরাপদে সরে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, ঘটনাস্থল সীমান্তের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুম, তুমব্রু, লেম্বুছড়ি, আশার তলী, ফুলতলী ও জামছড়ি সীমান্তে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তুমব্রু সীমান্তে কাঠ সংগ্রহে গিয়ে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ২০২৪ সালেও এর শিকার হন অনেকে। ২০২২-২৩ সালে ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে একাধিক বিস্ফোরণে কৃষক ও কাঠ সংগ্রহকারীরা আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের কারণে সীমান্ত জুড়ে নতুন করে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।

ফলে জীবিকার তাগিদে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি বিভিন্ন পয়েন্টে মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে গত জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আমরা সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন