ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধের গুঞ্জনের মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে “খুবই কঠিন” হয়ে পড়েছে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও খামেনি এখনো ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিরোধ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে ৫৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপরই মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, এই মুহূর্তে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। কিন্তু যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিরাট শক্তির উৎস, যা আমাদের এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।
তিনি জানান, মোজতবা খামেনি লিখিত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং গত মাসে তার বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেও অংশ না নেয়ায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি খামেনির সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং সেখানে তিনি “সৌজন্য ও অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত” আচরণ পেয়েছেন।
তার ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং তার একটি ভুল ভাবমূর্তি তৈরি করছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্বের দাবি
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে একটি “চূড়ান্ত আল্টিমেটাম” দিয়েছেন এবং আলোচনা ও যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমদ ভাহিদির অবস্থানকে সমর্থন করছেন।
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ তেহরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের হুমকিকে আর গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং নতুন করে পদত্যাগে নিরুৎসাহিত করতেও আগ্রহী নন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতিগত বিরোধের সময় পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন।
এমনকি গত মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রও জমা দেন। তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে তার সরকারকে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
চ্যানেল ১৪-এর দাবি, খামেনির সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যায় তিনি পুরোপুরি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একমত এবং এর ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রভাব আগের তুলনায় অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
তবে ইরানের সরকার বা সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এসব বিভেদের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও প্রকাশ্যে এমন কোনো মতবিরোধের কথা স্বীকার করেননি বরং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি নিজের আস্থা ও সমর্থনের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
