সাত মাস খোঁজ নেই ইমরান খানের, দুই ছেলের বিস্ফোরক অভিযোগ

সাত মাস খোঁজ নেই ইমরান খানের, দুই ছেলের বিস্ফোরক অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান ইসা খান তাদের বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না।

ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তৃতীয় বার্ষিকীতে লন্ডন থেকে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলেমান বলেন, আমাদের কাছে বাবার কোনো আপডেট নেই। কারণ তার পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইনজীবীদের সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) পাকিস্তানজুড়ে হাজারো পিটিআই সমর্থক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। এরপর ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে পাঠানো হয় ইমরান খানকে।

তবে ইমরান খান ও তার সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতেই এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান সরকারবিরোধী বড় বড় সমাবেশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরবর্তীতে দেশটির সরকার পিটিআই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায় এবং দলটিকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়।
ভিসা নিয়ে জটিলতার অভিযোগ

এদিন সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলেমান জানান, তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যেতে চান । তবে প্রতিবার গণমাধ্যমে কথা বলার পরই তাদের জন্য পাকিস্তানে প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে যায়।
কাসিম বলেন, আমরা যেতে চাই, চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুই এগোচ্ছে না। আমাদের ভিসা না দেয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সিএনএনকে জানায়, কাসিম ও সুলেমানের কাছে ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানিজ (এনআইসিওপি) রয়েছে। তাই তাদের পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এর জবাবে দুই ভাই বলেন, তাদের এনআইসিওপি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার নিঃশর্তভাবে পুনর্বহাল করতে হবে। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনবহির্ভূত একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানকে সাত মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে বা তার পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সরকারের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী ইমরান খান সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তার এক ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল- এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
তবে কারা বিধিমালা, আদালতের নির্দেশনা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পাক সরকার আরও জানায়, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইমরান খানকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির জন্য নির্মিত একটি সাত সেলের বিশেষ কম্পাউন্ডে রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে রয়েছে ৫৭ ফুট দীর্ঘ করিডর, ৩৫দ্ধ৩৭ ফুটের একটি লন, বিছানা, গদি, চারটি বালিশ, কম্বল, টেবিল-চেয়ার, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ব্যায়ামের সরঞ্জাম। পাক সরকারের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতা, অবহেলা বা শাস্তিমূলক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইমরান খানের সঙ্গে সরকারের কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সুলেমান বলেন, তার বাবা অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত না করে কোনো সমঝোতায় যাবেন না।

অন্যদিকে কাসিম বলেন, এ মুহূর্তে কিছু বলা কঠিন। তারা আমাদের কোনো স্বাস্থ্য প্রতিবেদনও দেখাচ্ছে না। ফলে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে কি না, সেটিও আমরা জানি না।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই, যাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তারা পাকিস্তানে কী ঘটছে, সেদিকে নজর দিন। শুধু আমরা ছেলে হিসেবে নয়, ৩৫ কোটি মানুষের পক্ষ থেকেও বলছি- যারা তাকে সমর্থন করেন এবং আবার দেশের নেতৃত্বে দেখতে চান। অথচ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন