ভারতের নয়াদিল্লিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পুলিশের বর্বরতা নিয়ে বিরোধী দলগুলো এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র জবাব দাবি করে আসছেন। বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ মোদি ও শাহ অধিবেশন এড়িয়ে যাচ্ছেন। বুধবারও সংসদ চত্বরে বিরোধী দলীয় সাংসদরা একই দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেছেন তারা। একই সঙ্গে রাম মন্দির অনুদান সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে সংসদে আলোচনা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছেন।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র’র নেতৃত্বে সাংসদরা প্ল্যাকার্ড হাতে ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে ‘প্রেরণা স্থল’-এ অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি থেকে সংসদের ‘মকর দ্বার’ পর্যন্ত মিছিল করেছেন। কংগ্রেস সাংসদরা ছাড়াও সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র সহ ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা মিছিলে অংশ নেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদে অমিত শাহের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিরোধীদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে তাকে বক্তব্য রাখার দাবি জানান। সাংবাদিকদের কাছে খাড়গে বলেন, তিনি (অমিত শাহ) কেন সদনে আসছেন না? তারা সংসদকে অসম্মান করছেন।
বেশ কয়েক দিন কেটে গেছে, অথচ তারা সদনে আসতে চাইছেন না। এসে বিবৃতি দিতে সমস্যাটা কোথায়? এদিকে, দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় পাথর ছোড়া-সহ বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেছেন, তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের সামলানোর সময়ে কর্তৃপক্ষের সংযম বজায় রাখা এবং সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কারণ হিংসা থামাতে যে কোনও হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে কেবল আরও উসকে দেয় বলে আদালত মন্তব্য করেছেন।
