১০ মিনিটেই কমল ৪৪ হাজার দর্শক! শেখ হাসিনার লাইভে আসলে কী ঘটেছিল?
সংবাদ সম্মেলন। ছবি: রয়টার্স

প্রথম কলকাতার প্রতিবেদন

১০ মিনিটেই কমল ৪৪ হাজার দর্শক! শেখ হাসিনার লাইভে আসলে কী ঘটেছিল?

ফন্ট সাইজ:

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে গতকাল বুধবার নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা লাইভে আসবেন এবং তাকে সরাসরি দেখা যাবে—এমন আলোচনা ছিলো। এমনকী বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারও করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেখা যায়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম প্রথম কলকাতার বিশ্লেষণভিত্তিক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন সুব্রত আচার্য।

শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ দুই বছর পর সরাসরি দেখা যাবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই ফেসবুকে লাইভে ঢুকেছিলেন বিপুল সংখ্যক দর্শক। আওয়ামী লীগপন্থী প্রচার একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছিল যে, শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি আসবেন। তাকে দেখা যাবে। এমনকি তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেও কথা বলবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেখা গেল না। ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার কথা থাকলেও এলেন অডিও সংযোগ যোগ নিয়ে। আর এরপর তার লাইভে ঘটলো একটি লক্ষণীয় ঘটনা। সেটা কী—শেখ হাসিনা কথা বলা শুরু করার আগে সমসাময়িক দর্শক সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬ হাজারের মতো। বক্তব্য শুরু করার ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে সেটি নেমে গেল ১ লাখ ৬২ হাজারে। অর্থাৎ এই সময়ের হিসেব বলছে—দর্শক কমেছেন প্রায় ৪৪ হাজার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মানুষ কি শেখ হাসিনাকে দেখতে না পেয়েই হতাশ হলেন। তার বক্তব্য কি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলো। নাকি এটি ফেসবুক লাইভের নিজস্ব ওঠানামার একটা রহস্য। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যে, নেত্রী ভিডিওতে আসবেন বলে প্রচার করার পরেও ভিডিওতে এলেন না। তার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা মানুষ কতটা বিশ্বাস করবেন। আজ আমরা তিনটি প্রশ্নের সোজাসাপটা উত্তর খুঁজবার চেষ্টা করব। প্রথমত ভিডিওর প্রত্যাশা তৈরি হলেও শেখ হাসিনা কেন অডিওতে থাকলেন। দ্বিতীয়ত তার বক্তব্যে তার নিজের প্রত্যাবর্তনের কোনো বাস্তব পরিকল্পনা পাওয়া গেল না কেন। তৃতীয়ত ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক বার্তা না বাস্তব সিদ্ধান্ত। শেষের দিকে আমরা দেখার চেষ্টা করব ভিডিও বনাম অডিও এবং ঘোষণা বনাম বাস্তব পদক্ষেপের ফারাকটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তিন সোজা প্রশ্নের কঠিন বিশ্লেষণ

প্রথমে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক দুই বছর পর ২০২৬ সালের আজকে ( গতকাল বুধবার) অর্থাৎ ৫ আগস্ট দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত ভারতে আসা শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা ও নেত্রী। অনুষ্ঠানের আগে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন দাবি করেছিল যে, শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে জনসম্মুখে আসবেন। এই প্রথমবারের মতো আসবেন বলেও দাবি করা হয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো প্রতিবেদনে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছিল—তাকে এদিন দেখা যাবে। ফলে প্রায় দুই বছর পর তার কণ্ঠ শোনার সঙ্গে তাকে দেখবেন—সেই প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল তার ভক্ত কিংবা তার সমালোচক বাংলাদেশের আপামর জনগণের মধ্যে। কিন্তু অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত হলো অডিও নির্ভর। শেখ হাসিনার কোনো লাইভ ভিডিও দেখা গেল না। এখন প্রশ্ন আসছে যে, ভিডিও কেন হলো না। নিরাপত্তাজনিত কারণে, প্রযুক্তিগত সমস্যা, ভারত সরকারের আপত্তির কারণে, নাকি সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে আয়োজক বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই ঠিক কোন কারণে এই অনুপস্থিতি সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এর একটি রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে যা উপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই। শুরুতেই বলেছিলাম শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার সময় যখন তিনি শুরু করেন তখন লাইভে দর্শক সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজারের মতো। তিনি বক্তব্য দেয়া শুরু করার পরই লাফিয়ে বাড়ে দর্শকের সংখ্যা। একদম শীর্ষে পৌঁছে যায় ২ লাখ ৬ হাজারের মতো।

কিন্তু সেই দর্শক বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি শেখ হাসিনা। ১০ মিনিটের মাথায় নেমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬২ হাজারে অর্থাৎ ৪৪ হাজার দর্শক ওই সময় পর্যন্ত শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এখন বোঝার চেষ্টা করুন কোনো সময়টিতে এই দর্শক কমে গেলেন। দর্শকরা যখন বুঝলেন শেখ হাসিনাকে দেখা যাবে না—তারপরেই দর্শক সংখ্যা দ্রুত কমেছে। এখান থেকে একটা বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা নেয়া যেতেই পারে যে, দর্শকেরা কোথাও আশাহত হয়েছেন। কারণ শেখ হাসিনাকে অনেকেই ভেবেছিলেন পর্দায় প্রথম দু’বছর পর দেখার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়েছিল দু’বছর পর দিল্লিতে কেমন আছেন, কেমন ছিলেন, বা দেখতে কেমন হয়েছেন শেখ হাসিনা, স্বাভাবিকভাবেই সকলের মধ্যে একটি কৌতূহল রয়েছে।

এবার আসি তার বড় ঘোষণার কথায়, শেখ হাসিনা এদিন আবারও বলেছেন— তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন। গ্রেফতার কারাবাস কিংবা প্রাণনাশের ঝুঁকি পর্যন্ত তার রয়েছে। তিনি উদাহরণ টেনেছেন ১৯৮১ সালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। কোন পথে ফিরবেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা। দেশে ফিরলে আইনি পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবেন। তার কোনো পরিষ্কার রূপরেখা শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করেননি। বাংলাদেশের আদালতে অনুপস্থিত অবস্থায় শেখ হাসিনার বিচার হয়েছে। তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজাও দেয়া হয়েছে। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সময়ে প্রায় ১৪০০ জন মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। এবার চলুন তিনটি স্তরে বিষয়টি দেখবার চেষ্টা করি। প্রথম স্তরে প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনা এখনো বিপুল আগ্রহ তৈরি করতে পারছেন। ২ লাখের বেশি দর্শক সরাসরি লাইভে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে গোটা লাইভ প্রায় কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই আগ্রহ যখন লাইভে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই আগ্রহ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বোঝাতে চেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ হয়ে যাননি বরং তিনি এখনো নেতৃত্বে রয়েছেন এবং দেশে ফেরার দাবি থেকে পিছুপা হননি। এবার বলব তৃতীয় স্তরের কথা বাস্তব রাজনীতি। দেশে ফিরতে হলে শুধু সাহসী ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। কারণ প্রয়োজন তার আইনি প্রস্তুতি। সংগঠনের সক্রিয়তা। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পরিসর এবং নিরাপত্তার বাস্তব ব্যবস্থা। আর এই চারটি ক্ষেত্রেই কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সামনে আসেনি এখনো।

ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আপাতত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা মাত্র। কিন্তু এখনো সেটি বাস্তব প্রত্যাবর্তনের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বলা যাচ্ছে না। বিপরীত যুক্তিও রয়েছে এখানে। সেটি কি হাসিনার সমর্থকেরা বলতে পারেন নিরাপত্তার কারণে তাকে ভিডিও কনফারেন্সে আনা হয়নি। একই কারণে দেশে ফেরার দিন পথ বা আইনি কৌশলও প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয়নি। এই যুক্তি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এটাও ঠিক যে, নিরাপত্তাজনিত কারণ থাকলে সেটি সাংবাদিক সম্মেলনে সাধারণের সামনে জানানোর সুযোগ ছিল। কোনো ব্যাখ্যা না থাকলে প্রশ্ন কিন্তু বাড়তেই থাকে। এখানে দিল্লির অবস্থানও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কেন বলছি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এরই মধ্যে জানিয়েছিল যে, এই অনুষ্ঠানটি একেবারেই বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা নেই এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে এবং সেখানে প্রকাশিত মতামতও দিল্লি সমর্থন করে না অর্থাৎ শেখ হাসিনা দিল্লিতে থেকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন কিন্তু ভারত সরকার সেই বার্তার রাজনৈতিক মালিকানা নেয়নি।

আওয়ামী লীগপন্থী প্রচার এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনাকে দেখার প্রত্যাশা থেকে। বাস্তবে দর্শক পেলেন তার কণ্ঠ। তারপর তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন। কিন্তু দিলেন না তারিখ পথ কিংবা আইনি প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান নকশা। এটাই আজকের সবচেয়ে বড় ফারাক প্রচার বনাম বাস্তব পরিস্থিতি। ঘোষণা বনাম বাস্তব পদক্ষেপ। ৫ আগস্টের অনুষ্ঠান শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে। কিন্তু তার প্রত্যাবর্তনের বিশ্বাসযোগ্যতার পথ দেখাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন আমাদের সকলের নজর থাকবে ডিসেম্বরের আগে তিনি কোনো আইনি বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ করেন কিনা। কিংবা তিনি পরবর্তী অনুষ্ঠানে সত্যিই দৃশ্যমান হন কিনা।

ওদিকে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসি বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষ। ‘‘দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সংবাদ সম্মেলনে’ যা হলো’’—শিরোনামে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন তিনি।

বিশ্লেষণটি পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো-

আজ বুধবার ৫ই আগস্ট ২০২৬। দিল্লিতে এখন ঘড়িতে বেজেছে রাত ৮টা। কয়েক মিনিট আগে এখানে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেষ হলো শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, যিনি ঠিক আজকের তারিখে দু’বছর আগে ভারতে এসে নেমেছিলেন। তার প্রথম লাইভ প্রেস ইন্টারেকশন। পুরদস্তুর সংবাদ সম্মেলন হয়তো এটাকে বলা যাবে না। কারণ আমরা শেখ হাসিনার কোনো ছবি দেখতে পাইনি। ভিডিওতে নয়, তাকে অডিও শুনতে পেয়েছি। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো লাইভ, কোনো লিখিত ই-মেইল সাক্ষাৎকার নয় বা কোনো টেলিফোন সাক্ষাৎকার নয়, তিনি সরাসরি একঝাক সাংবাদিকের সামনে এলেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন। ওই একই সাংবাদিক সম্মেলনে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকা থেকে। ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও এবং দিল্লিতে এই বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি তার নিজের বক্তব্যই প্রথমবারের মতো গত দু’বছরের মধ্যে তুলে ধরলেন। যথারীতি এই প্রশ্ন উঠেছিল যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট ২০২৪—এ যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার অভিযোগ রয়েছে সেই ব্যাপারে তিনি অনুতপ্ত কিনা। তিনি এইটার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করবেন কিনা। দুঃখ বা ক্ষমা প্রকাশ করবেন কিনা। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলটা ঠেলে দিয়েছিলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোর্টে এবং সজীব ওয়াজেদ জয় তার উত্তরে বলেছেন—মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেভাবে ইনডেমনিটি বা রক্ষাকবজ দিয়েছে হত্যাকারীদের, তাতে এটা বলাই যেতে পারে যে, বাংলাদেশে একটা হত্যাকাণ্ড রক্ষাকবজ পেলে অন্যটারও সেটা পাওয়া উচিত। তারা ঘুরিয়ে বলতে চেয়েছেন যে, বাংলাদেশে নিরাপত্তারক্ষী বা পুলিশদের হত্যাকাণ্ড যদি বৈধ হতে পারে, হত্যাকারীরা যদি সেটার জন্য আইনের রক্ষাকবজ পেতে পারেন, তাহলে অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো সেই একই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী এটাই তারা দাবি করেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো—ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি কিছুদিন আগে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে ব্যাপারে আজ নতুন তিনি কি বললেন? তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল দেশে ফেরার কি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়েছে? তিনি সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। বলেছেন ডিসেম্বরে ফিরবো। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কি ব্যাকডোর কোনো আলোচনা হচ্ছে? পর্দার আড়ালে কোনো আলোচনা হচ্ছে? তিনি সে প্রশ্নের উত্তরও এড়িয়ে গেছেন। তার ছেলেও এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তারা যেটা বলেছেন যে, কাম হোয়াট মে যাই ঘটুক না কেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার জন্য বদ্ধপরিকর। তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ভারত এখানে কি কোনো ভূমিকা পালন করছে? এই প্রশ্নেরও আমরা কোনো সরাসরি উত্তর পাইনি। তারা বলেছেন যে, ভারত এর আগে বাংলাদেশ যখনই বিপদে পড়েছে তারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তাদের সেই বিশ্বাস আছে। ভারত যে আতিথ্য শেখ হাসিনাকে দিয়েছে তার জন্য তিনি ধন্যবাদও জানিয়েছেন।


আরেকটা জিনিস তিনি যেটা বলেছেন যে, বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন রিকনসিলিয়েশন। অর্থাৎ ঐক্য-সংহতির পরিবেশ, এখন রাজনৈতিক বিভক্তির সময় নয় অর্থাৎ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরলে তিনি চাইবেন সমস্ত মত-পথের লোককে নিয়ে, রাজনীতির লোককে নিয়ে একটা রিকনসিলিয়েশনের পরিবেশ তৈরি করতে। সভায় উপস্থিত অন্য আওয়ামী লীগ নেতারাও জানিয়েছেন তারা রিভেঞ্জ বা বদলা চান না। তারা চান ঘৃণা বা রাজনৈতিক বিদ্বেষকে আশা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করতে। আশা দিয়ে রিপ্লেস করতে।

প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এফসির সভাকক্ষে চলেছে এই লাইভ ইন্টারেকশন। যার মধ্যে মোটামুটি আধ ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন এই কনফারেন্সে। হলে কারা ছিলেন? তারা ছিলেন মূলত দিল্লিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশীয় বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা, এফসিসির কর্মকর্তারা, এফসিসির প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা এবং ভারত সরকারের বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাইনি। তবে ভারতের সাবেক কূটনীতিক এবং বাংলাদেশের নিযুক্ত প্রাক্তন হাই কমিশনার বিনা সিক্রি ছিলেন। অনলাইনে যারা যুক্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও। আমরা জানি সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। তিনি এই মুহূর্তে খেলছেন শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে কলম্বোতে। সেখান থেকেই তার পাঠানো একটি রেকর্ডেড অডিও বার্তা (বাংলায়) বাজিয়ে শোনানো হয়। কারণ তখন তিনি খেলায় ব্যস্ত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য তাকে আমরা অনলাইনেও যোগ দিতে দেখেছি। কিন্তু তখন আর কোনো কথা বলতে শুনিনি।

SHINGRAPUR

১৮ ঘন্টা আগে

তাঁর শাসনকালকে—বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকাকালীন শেষ বছরগুলোকে—কঠোর স্বৈরতান্ত্রিক যুগ হিসেবে অভিহিত করেন; এই সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র জনরোষের জেরে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এক গণ-অভ্যুত্থান ঘটে, যার পরিণতিতে তিনি পদত্যাগ করেন এবং দেশ ত্যাগ করেন।

SHINGRAPUR

১৮ ঘন্টা আগে

তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী মত দমনের তীব্র অভিযোগ রয়েছে। তিনি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে সহিংস করে তুলেছিল। অনেকেই মনে করেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন পর্যালোচনায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বড় কোনো গুণগত পরিবর্তন আশা করা কঠিন।

Joglul nishat Nishat

২১ ঘন্টা আগে

উনি লাজ-লজ্জাহীন ক্ষমতালিপ্সু হিংস্র প্রকৃতির মানুষ। উনার কোনো পরিবর্তন আশা করা নিস্ফল।

Md Zahedul Anwer

২২ ঘন্টা আগে

আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে নতুন প্রজন্মের তরুণদের একটি বড় অংশ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এই অবস্থা কাটিয়ে উঠে আগামী দিনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পুনঃপ্রতিষ্ঠা কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে।সেই পুরনো ধারা কোন অনুশোচনা নেই, কোন অপরাধবোধ নেই, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোন লক্ষণ নেই। শেখ হাসিনা কোনদিন বদলাবে না, আর আওয়ামী লীগের দুর্ভোগ কমবে না।প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনৈতিক চর্চার একধরনের জোয়ার চলছে। এই জোয়ারে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনের রাজনীতি যে সংঘাতময় হতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলছে।

Monshur Ahmed

২৩ ঘন্টা আগে

শুধু অন্যের সমালোচনা করলেই নিজের অতীতের দায় মুছে যায় না।
আজও তাঁর বক্তব্যে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা নেই—আছে শুধু প্রতিপক্ষকে আক্রমণ। কিন্তু ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অভিযোগ, গুম-খুনের অভিযোগ, 'আয়না ঘর' নিয়ে বিতর্ক, প্রাণহানির ঘটনাগুলো এবং সংকটের সময় নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিপদের মুখে ফেলে দেশত্যাগ—এসব নিয়ে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার একটি কথাও শোনা যায় না।
জনগণ এখন শুধু বক্তৃতা নয়, জবাবদিহি চায়। অতীত এড়িয়ে অন্যের দিকে আঙুল তুললে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসে না। যে নেতৃত্ব নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না, তার কথায় মানুষের আস্থা তৈরি হওয়াও কঠিন।

SHINGRAPUR

১ দিন আগে

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে তারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। They have lost their credibility to the people of Bangladesh.

SHINGRAPUR

১ দিন আগে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও পরবর্তীতে সরকার পতন আন্দোলন চলাকালীন নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত দায় তৎকালীন সরকার প্রধানের ওপর বর্তায়।
বিরোধীদের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ে পর পর কয়েকটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় সরকারের মধ্যে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
একটি বড় অংশের দাবি, এই ধরনের গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং এই বিষয়ে আইনি পর্যালোচনা বা নিষেধাজ্ঞার দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে। They have lost their acceptance to the majority people's of Bangladesh. They can't come to the power through a credible election process.

Haider Ali

১ দিন আগে

পাচারকৃত টাকায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন... প্রশ্ন ছিল না উত্তরও ছিল না... ছিলো পুরানো কাসুন্দি।

A.Q.M.Maksudul Haque

১ দিন আগে

শেখ হাসিনা হলেন একজন ভিতু রাজনীতিক। এরশাদ আমল থেকেই দেখে এসেছি, তিনি যখন কোন আইনি ঝামেলায় জড়িয়েছেন তখন ই তার মুখ টা শুকিয়ে বিমর্ষ হয়ে গেছে (বিশ্বাস না হলে যে কেও আরকাইভ থেকে ঘুরে দেখে নিতে পারেন)। আর উনি জেল জুলুম ভয় পান বলেই এরশাদের আমলে এরশাদের সাথে নিগোছিয়েশন করে রাজনীতি করেছেন। উনি ভয় পান বলেই ১/১১ এ ফখর উদ্দিন মইন উদ্দিন এর সাথে আপোষ করে রাজনীতি করেছেন। আর উনি ভয় পান বলেই ৫ই আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। উনার যদি সাহস থাকতো তাহলে এভাবে না পালিয়ে দেশেই থাকতেন। যেমন ছিলেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। আর যিনি একবার পালিয়ে যায় তিনি অবস্থা অনুকুলে না আসা পর্যন্ত আর ফিরে আসেনা। আর উনি হলেন ভালো একজন রাজনৈতিক অভিনেত্রী। দলে নিজের অবস্থা ধরে রাখতে উনি হয়তো দেশে ফিরে আসার কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এগুলো ও উনার রাজনৈতিক ষ্টান্ডবাজি।

মোহাম্মাদ্

১ দিন আগে

ইনি ইনিয়ে বিনিয়ে মিথ্যা বলতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত । ওনাকে দেশে আসার সুযোগ দেওয়া হউক এবং ঘোষিত সাজা অতিদ্রুত কার্যকর করে জুলাই হত্যার বদলা নেওয়া হউক ৷ যিনি দেশের মানুষের প্রতি নুন্যতম দরদ দেখাতে জানেনা তাকে মাফ করার প্রশ্নই আসেনা ৷ দেশপ্রেমিক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যার অপরাধে তাকে ফাঁসী দিয়ে জনবহুল স্থানে ১ সপ্তাহ ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা রাখার জোর দাবী সরকারের কাছে ৷ ধন্যবাদ সবাইকে ।

আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া

১ দিন আগে

রিকনসিলিয়েয়েশন শব্দটাই আওয়ামিলিগের ডিকশনারিতে নেই ,ছিলোনা। গৃহ যুদ্ধ বাধাবে তবুও ক্ষমতা ছাড়বেনা এই কথাটাই তখনকার প্রচারণা ছিল।শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন যে কোনোভাবেই হউক এই ভাইব টাই তার দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে চলমান ছিল।তাই কোনো অপরাধ করতে গিয়ে ওরা ভাবতেই পারেনি এইগুলোর বিচার হবে।এই দলটির সম্পর্কে যাই বলুক যে আমি বলব দেশের প্রতি সামান্য দায়িত্বশীল সংগঠন ও নয় এই দলটি ।তাই যদি আইনী জটিলতা না থাকে তবে আইনী ভাবেই এই দলটিকে এই দেশে আর রাজনীতি করতে দেয়া উচিত নয়।

জামশেদ পাটোয়ারী

১ দিন আগে

ঘুরেফিরে একই কাসুন্দি, যে কথাগুলো শুনতে শুনতে মানুষ বিরক্ত।

Andalib

১ দিন আগে

আমিও ঢুকেছিলাম এ আশায় যে আমরা তার মধ্যে কোন পরিবর্তন দেখবো। কিন্তু হতাশ হলাম। সেই পুরনো arrogance. কোন অনুশোচনা নেই, কোন অপরাধবোধ নেই, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোন লক্ষণ নেই। শেখ হাসিনা কোনদিন বদলাবে না, আর আওয়ামী লীগের দুর্ভোগ কমবে না।

পারভেজ

১ দিন আগে

অনেক সময় সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যাটিই সত্য, তিনি হয়তো দিল্লৌতে আসলে নেই

Shahriar

২৩ ঘন্টা আগে

কিংবা হয়ত বেচেই নাই!

মন্তব্য করুন