সাবেক মেয়র, বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলতে গেলে চোখ, কান বন্ধ করেই সমালোচনার মুখে সিলেট নগরের পরিধি বর্ধিত করে গিয়েছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে তার সেই পরিকল্পনা ছিল যৌক্তিক। নগরের আদল ছিল। কিন্তু অনেক এলাকাই ছিল বাইরে। সেটি করার পর এখন সিলেট নগর একটি মেগাসিটি। ৪২টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা। দু’টি সংসদীয় আসনে পড়েছে নগরের জনপদ। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক। নতুন ওয়ার্ড বর্ধিত করার পর হাতে সময় পাননি সাবেক মেয়র। তাকে নগর মসনদ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে মেয়রের চেয়ারে এলেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্যের নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। চেয়ারে বসেই তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন। তিনি তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নে যেতে পারেননি।
তবে ওয়ার্ডের বড় বড় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজে হাত দিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ফের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। কয়েক বছরখানেক বিরতির পর সিটির প্রশাসক হয়েছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। এখন হচ্ছে নগর উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান। প্রায় ২০-২২ বছর আগে প্রণয়ন হয়েছিল সিলেট নগরের পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডের মাস্টারপ্ল্যান। সেই প্ল্যান মতো নগরের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু নতুন করে আরও ১৫টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ফের মাস্টারপ্লানের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন নগর কর্তৃপক্ষ। সে কারণে নতুন ওয়ার্ড সহ নগরের ৪২টি ওয়ার্ডের নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে অংশীদার জনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করাটা খুবই জরুরি। নতুবা পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগর সাজানো সম্ভব নয়। কাজ অনেক এগিয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন- এখন যে কাজ চলছে সেগুলোও মাস্টারপ্ল্যান মতো হচ্ছে। যদিও প্ল্যান চূড়ান্ত হয়নি তবু আমরা চাই যেগুলো প্ল্যানে থাকবে সেগুলোর কাজ একটু আগেই শুরু করতে। এরই মধ্যে নগরের খোলারখলা, ঘাষিটুলা এলাকার দু’টি জলাধার বা পুকুর উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে সংরক্ষণ ও মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন- মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ দ্রুতই এগুচ্ছে। সিলেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনার বিষয়টি মাথায় রেখে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিলেট নগরীর সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আহ্বানে গুরুত্বপূর্ণ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন- সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান- জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রী জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট-এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন- সরকার সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
