গণভোটের রায় কার্যকর করে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন

গণভোটের রায় কার্যকর করে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রেসিডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর করে এই রক্তাক্ত জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে আপনি বাস্তবায়িত করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন। গতকাল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ জাবেরের মা যখন বলেন, ছয় বছরের শিশু মা’কে বলেছে, মা, আমাকে হেলমেট পরিয়ে দাও, আমি যুদ্ধে যাবো। শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, অত্যাচার, নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিশুদের মনের মধ্যে দ্রোহ সৃষ্টি হয়েছিল। সে কারণে তারাও রাজপথে এসেছিলো। ৩৬শে জুলাই ওই গণভবনের বাংলাদেশের সমস্ত প্রবেশপথ দিয়ে রাজধানীতে কোটি কোটি মানুষ যখন মিছিলে যাচ্ছিল, ওইসব শিশুরা সেই মিছিলে শামিল হয়ে সেখানেই জীবন দান করেছে। তার অর্থ এই ছিল না যে, তারা পৃথিবীর কোনো সুযোগ-সুবিধার জন্য এসেছিল। এটা ছিল মানুষের মুক্তি, দেশের কল্যাণ।

তিনি বলেন, অন্যায়, অসত্য, অবিচারের বিরুদ্ধে বিবেকের মধ্যে জেগে ওঠা সেই দ্রোহই আমাদের সন্তানদেরকে এই বিপ্লবের জন্য রাজপথে নামিয়েছিল। আমার আজকের আবেদন থাকবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে। এই কারণে আলাদাভাবে আমি বলছি যে, সরকার এবং রাষ্ট্র বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দু’টি পৃথক সত্তা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অনেক সময় পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে যারা সরকার এবং সরকারপ্রধান থাকেন, সরকার পরিচালনায় তাদের মধ্যে অনেকটা পলিটিক্যাল কনসিডারেশন থাকে। কিন্তু যিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি হন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকেন না। তার কাছে কোনো পলিটিক্যাল কনসিডারেশন থাকে না।

তিনি আরও বলেন, ৩৬ জুলাইব্যাপী, মাসব্যাপী যে অনেক অনুষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন দল-মত-সংস্থা করলো, আমাদের অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছে। আপনারাও সবাই থেকেছেন। সেইসব অনুষ্ঠানে শহীদদের মায়েদের যে কান্না, এখানেও আমরা শুনলাম। এখান থেকে বোঝা যায় যে, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমি এখানে গর্বিত শহীদদের পরিবারের যারা সম্মানিত সদস্য আছেন, আহত জুলাইযোদ্ধারা আছেন-সকলের জন্য আমি বলবো, যারা জীবন দিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে তারা সম্মানিত হবেন। আল্লাহ্‌তাআলা তাদেরকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেহেতু তারা নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবন দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমার আবেদন থাকবে, মাসব্যাপী জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের যে কান্না-সব আহতকে সমান তালিকায় আনা হয়নি, সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না, অনেকে তালিকাভুক্ত হননি, অনেকের চিকিৎসা হচ্ছে না। একটা বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের পক্ষে এই কয়েকজন শহীদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন কোনো অসম্ভব ব্যাপার নয়। আমার আবেদন থাকবে- শহীদ পরিবারের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে এই বিষয়টা আপনি স্পেশালি সরকারকে নির্দেশ দেবেন-যেন একজন শহীদের পরিবার বলতে না পারে যে, আমার আফসোস আছে। এই আফসোস আপনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পূরণ করবেন।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, গণ-আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই রক্তাক্ত জুলাইয়ের আন্দোলনের ভিত্তিতে আমরা যে জুলাই চার্টার করেছিলাম, জুলাই সনদ করেছিলাম, ঐকমত্য কমিশন করেছিলাম। যার ভিত্তিতে একটি গণভোটের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমরা সবাই হাতে ভোট দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী ভোট দিয়েছিলেন, এখানে উপস্থিত যারা সবাই আমরা হাতে ভোট দিয়েছিলাম। আজকে সেই গণভোটের গণরায় কার্যকর করা হয়নি। এ ব্যাপারে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা ১১ দলীয় ঐক্য, আপনি তখন স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন-আপনার কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়ে বলেছি, আপনি হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে পদক্ষেপ নিয়ে এখন আপনি গণভোটের গণরায় কার্যকর করে এই রক্তাক্ত জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে আপনি বাস্তবায়িত করে ইতিহাসে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন