মোজাফফরের ফেসবুক মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটা’র কাছে চিঠি

মোজাফফরের ফেসবুক মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটা’র কাছে চিঠি

ফন্ট সাইজ:

৪৫ বছর পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটা’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করা কয়েকটি ফেসবুক আইডি’র সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। গতকাল বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের স্বার্থে ১২ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে। এগুলো হলো- গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ। পূর্বে নিবন্ধিত এবং সংযুক্ত সমস্ত ই-মেইল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর। টাইমস্ট্যাম্পসহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস। অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত আইপি ঠিকানা এবং ডিভাইস আইডেন্টিফায়ার। ঐতিহাসিক এবং সাম্প্রতিক অবস্থানের ডাটা। ডিভাইসের তথ্য, ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অপারেটিং সিস্টেমের বিবরণ। সমস্ত ফেসবুক মেসেঞ্জার যোগাযোগ, মুছে ফেলা বার্তা। মুছে ফেলা পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট মেটাডেটা। অ্যাকাউন্ট তৈরির তারিখ এবং সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্টের ইতিহাস। ব্যবহারকারীর নামের ইতিহাস, প্রোফাইল পরিবর্তন এবং সংযুক্ত মেটা অ্যাকাউন্ট। প্রশাসনিক লগ, নিরাপত্তা লগ এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের রেকর্ড। এই তদন্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক যেকোনো সংরক্ষিত সামগ্রী, অডিট লগ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত তথ্য।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত বিভাগ মুজাফফরের একটি ফেসবুক আইডি খুঁজে পেয়েছে। তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কখন যোগাযোগ করেছেন এসব বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে এমন কিছু ফেসবুক আইডি’র মধ্যে সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করা আইডি’র খোঁজ পাওয়া গেছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এসব আইডি’র পেছনে থাকা ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগের মূল পেইজের এডিটর বা এডমিন হিসেবে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মেটা’র কাছ থেকে এসব আইডি’র ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মুজাফফরের যোগাযোগের পুরো ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ১৫ই জুলাই ১৯৮১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১৬ই জুলাই গ্রেপ্তারের পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২৩শে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি)। সেই সঙ্গে তাকে দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদিও এখনো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি তদন্ত সংস্থা। এ ছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন