জুলাইযোদ্ধা ডাক্তার শামীম ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

জুলাইযোদ্ধা ডাক্তার শামীম ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জুলাই আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতাকে চিকিৎসা দেয়া মানবিক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত শামীম ভূঁইয়া (২৯)কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে পৌর এলাকার কামারকোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌর এলাকার কামারকোনা মহল্লার মৃত আলম ভূঁইয়ার ছেলে। ডাক্তার শামীম ভূঁইয়া গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে শতাধিক নারী- পুরুষ থানার গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ এবং মুক্তির দাবি জানায়। এলাকাবাসী ও জুলাই আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন শামীম ভূঁইয়া। আহতদের যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হতো না, বা আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারতো না তখন তিনি তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জুলাইয়ের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি তার নিজ গ্রামে অর্ধশত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। এ কারণে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে পৌর এলাকায় জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ও আফজল হুসাইন বলেন, ডা. শামীম ভূঁইয়া জুলাইয়ের পক্ষের লোক। তিনি নানাভাবে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আমরা যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাইনি, তখন তিনি আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। আমরা তার মুক্তি চাই।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ডা. শামীম ভূঁইয়া জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি একজন মানবিক ডাক্তার। আমরা তার মুক্তি চাই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন রশীদী বলেন, ডা. শামীম ভূঁইয়া একজন ভালো মানুষ। সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কর্মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি। অবিলম্বে তার মুক্তি চাই। পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. নাছিম বলেন, ডা. শামীম ভূঁইয়াকে সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে দেখিনি। তাকে জুলাইয়ের পক্ষের লোক হিসেবেই দেখেছি। পুলিশ হেফাজতে থাকা ডা. শামীম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইনবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা কখনোই ছিল না, এখনও নেই । ৭-৮ বছর আগে পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদে আমার নাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। আমি জুলাই আন্দোলনে বিবেকের তাড়নায় ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলাম। এখন কতিপয় ব্যক্তির প্রতিহিংসার শিকার হলাম। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ডা. শামীমকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন