চিলাহাটি-পার্বতীপুর রেলপথে ৬ স্টেশনই বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

উত্তরের জেলা নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে পার্বতীপুর রেলপথে ১১টি স্টেশনের মধ্যে ৬টি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার ট্রেন যাত্রীদের দূরবর্তী স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হচ্ছে। এতে করে সময় ও অর্থের ব্যয় বাড়ছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত স্টেশনগুলোর অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে এবং অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সূত্র জানায়, চিলাহাটি-পার্বতীপুর রেলপথে ১১টি স্টেশন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সৈয়দপুর, খয়রাতনগর, দারোয়ানী, নীলফামারী কলেজ, নীলফামারী, তরুণীবাড়ী, ডোমার, মীর্জাগঞ্জ ও চিলাহাটি, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও বেলাইচন্ডী স্টেশনসহ মোট ১১টি স্টেশন রয়েছে। জনবল-সংকটে প্রায় ২০ বছর ধরে খয়রাতনগর, দারোয়ানী, নীলফামারী কলেজ, তরুণীবাড়ী, মীর্জাগঞ্জ ও পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর হয়ে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী রুটে ছয় জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন এবং একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। আগে এ পথে দু’টি লোকাল ট্রেন চললেও লোকসানের অজুহাতে তা বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপরই একে একে বন্ধ হয়ে যায় এ ৬টি স্টেশনের কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে স্টেশন ভবন, লুপলাইন ও রেলওয়ের মূল্যবান অবকাঠামো। এরই মধ্যে বেদখলে চলে গেছে স্টেশনসংলগ্ন বিপুল পরিমাণ জমি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্ধ স্টেশনগুলোর অব্যবহৃত অবকাঠামো ও সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু কিংবা সম্পদ সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সরজমিন নীলফামারীর খয়রাতনগর ও দারোয়ানী স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, আধা পাকা টিনশেড ভবনগুলো গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। টিকিট কাউন্টার, স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও যাত্রীদের বিশ্রামাগার অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকার লোকজন বলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের উলটপাড়া গ্রামের ভাষাসৈনিক ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী খয়রাত হোসেনের নামে স্টেশনটির নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি পরিত্যক্ত। স্থানীয় বাসিন্দা অহিদুর রহমান বলেন, খয়রাতনগর স্টেশন থেকে উত্তরা ইপিজেডের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। ইপিজেড পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং স্টেশনটি চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। দারোয়ানী স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর সেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

সৈয়দপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন বলেন, বর্তমানে উত্তরা লোকাল ট্রেন শান্তাহার থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত চলাচল করে। ট্রেনটি চিলাহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা গেলে উত্তরা লোকাল ও রকেট মেইল ট্রেনের স্টপেজ দেয়া সম্ভব হবে। এতে স্টেশনগুলো আবার সচল হবে, আন্তঃনগর ট্রেনে বিনাটিকিটে ভ্রমণ কমবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং শত কোটি টাকার রেলসম্পদও সুরক্ষিত থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন