‘টপ ফাইভে থেকে লীগ শেষ করতে চাই’

‘টপ ফাইভে থেকে লীগ শেষ করতে চাই’

ফন্ট সাইজ:

ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ আসর বাংলাদেশ ফুটবল লীগে (বিএফএল) অভিষেকের অপেক্ষায় ঢাকার সিটি ক্লাব। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে রানার্সআপ হয়ে এ যোগ্যতা অর্জন করে তারা। বিএফএলের নতুন মৌসুমে খেললে পেশাদার লীগে খেলা ২৯ দল হবে সিটি ক্লাব। নিজেদের অভিষেক আসর রাঙাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা। ইতিমধ্যে দল গোছানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম নিয়ে ক্লাবটির পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ব্যাপারে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুল হক মঈন।
প্রশ্ন: ঘরোয়া ক্রিকেটে সিটি ক্লাবের দারুণ সব স্মৃতি ও অর্জনের গল্প আছে। এবার ফুটবলের শীর্ষ লীগে খেলবে সিটি ক্লাব। অভিষেক আসরে লক্ষ্যটা জানতে চাই?

মঈন: ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে এবার ফুটবল মাঠে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায় সিটি ক্লাব। প্রথমবারের মতো আমরা বিএফএলে খেলবো, এটা সত্যিই বড় একটা ব্যাপার। টুর্নামেন্টে শুধু অংশ নেয়ার জন্যই আমরা খেলবো না, অন্তত টিকে থাকতে চাই।
প্রশ্ন: ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ লীগে অনেকেই টিকে থাকার আশা পোষণ করেছিল। কিন্তু টিকে থাকতে পারেনি। এই চ্যালেঞ্জ নিশ্চয়ই রয়েছে। কীভাবে সামলাবেন বলে ভাবছেন...
মঈন: দেখুন, আমি টিকে থাকা বলতে লীগ টেবিলের একদম নিচের দিকের কথা বলছি না। আমরা এমনভাবে দল সাজিয়েছি, যেন চ্যাম্পিয়ন ফাইট দিতে না পারলেও টপ ফাইভে থেকে প্রথম আসরটা শেষ করতে চাই।
প্রশ্ন: যে দল গুছিয়েছেন সেটা নিয়ে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে কতোটা আত্মবিশ্বাসী?
মঈন: আমরা কিন্তু এবার দেশি-বিদেশি কালেকশন মিলিয়ে ভারসাম্য রেখেছি। ঘরোয়া ফুটবলের সবশেষ আসরের পরীক্ষিত পারফর্মারদের নিয়ে দল গোছানো প্রায় শেষ। তিন জন বিদেশি আর দু’জন ফুটবলারকে সাফ কোটায় নিয়েছি। আর দুটো স্লট খালি আছে।
প্রশ্ন: পরীক্ষিত কালেকশন বলতে কাদের বুঝিয়েছেন জানতে পারি?
মঈন: বিদেশিদের মধ্যে গতবার ফর্টিস এফসিতে খেলা নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওকাফর, রহমতগঞ্জের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সোলেমান কিং এবং পুলিশ এফসির গাম্বিয়ান সেন্টার ব্যাক ফোডে আমাদের হয়ে খেলবেন। গত মৌসুমে ব্রাদার্সে খেলা পাকিস্তানের শায়েখ দোস্ত ও নেপালের সেন্টার ব্যাক ইয়োগেসকে আমরা সাফ কোটায় চুক্তিবদ্ধ করেছি। স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে গত বছর রহমতগঞ্জে খেলা ফরোয়ার্ড রাকিবুল ইসলাম, ফর্টিস এফসি হয়ে খেলা সাজেদ হোসেন জুম্মান নিঝুম, মোহামেডানের তরুণ গোলরক্ষক সাকিব আল হাসান ও ব্রাদার্সের গোলরক্ষক ইসহাককে নিয়েছি। ফর্টিসের রাইটব্যাক মনা, মিডফিল্ডার সাঈদী, মোহামেডানের লেফটব্যাক দিপু, আবাহনীর লেফট উইং এনামুল এবার আমাদের হয়ে খেলবেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন রাশিয়ান ফুটবলার দলে টেনেছেন। তার অন্তর্ভুক্তিটা কীভাবে?
মঈন: ওর নাম ডেনিয়েল মামুনুল। লেফট উইংয়ে খেলে। একদিন ওর বাবা আমাদের ক্লাবে ওকে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর ওকে আমরা দেখলাম। ওর মধ্যে দারুণ প্রতিভা আছে। রাশিয়ায় বয়সভিত্তিক ক্লাব পর্যায়ে খেলেছে। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চায় বলে ঢাকায় এসেছে।
প্রশ্ন: হেড কোচ হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুকেই কেন সিটি ক্লাব বেছে নিলো? বাকি স্টাফদের কথাও জানতে চাই...
মঈন: সেন্টুর সঙ্গে আমি খেলছি। মানুষ হিসেবে যেমন ভালো, কোচ হিসেবেও পরীক্ষিত। গত মৌসুমে মোহামেডানে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভালোই সাফল্য পেয়েছে। জুয়েল সহকারী কোচ হিসেবে থাকবে। বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক নয়নের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ওর সঙ্গে চুক্তি না হলে আশরাফুল হোসেন রানাসহ আরও দু’-একজনের কথা ভেবে রেখেছি।
প্রশ্ন: লীগকে সামনে রেখে কেমন প্রস্তুতি চলছে?
মঈন: কয়েকদিন আগে থেকেই আমরা অনুশীলন করছি। অনুশীলনে বেশির ভাগ প্লেয়ারই যোগ দিয়েছে। ওকাফর ও ফোডেকে আমরা এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগের জন্য ছেড়েছি। গাবতলীর কাছে একটি মাঠ ভাড়া করে সেখানে অনুশীলন চলছে।
প্রশ্ন: ঘরোয়া ফুটবলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন মাঠের সংকট, লীগের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। গতবার ১০ দলের লীগ হলেও এবার ১৩ দল নিয়ে মাঠে গড়াতে পারে নতুন মৌসুম। এসবের মাঝে কেমন টুর্র্নামেন্ট প্রত্যাশা করেন?
মঈন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবান্ধব একজন মানুষ। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সারা দেশে ক্রীড়াঙ্গনের জোয়ার বইয়ে দিতে চেষ্টা করছেন। বাফুফেও চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে লীগ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়া উচিত। দলের সংখ্যা ১৩ না করে ১০ এর মধ্যে রাখলে বোধ হয় ভালো হতো।
প্রশ্ন: সিটি ক্লাবের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বার্তা থাকবে?
মঈন: সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। এতদিন আপনারা ভালোবেসেছেন। আগামী দিনেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন, মাঠে গিয়ে ক্লাবকে সমর্থন দেবেনÑ সেটাই প্রত্যাশা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন