স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

ফন্ট সাইজ:

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত নেত্রকোণার বিতর্কিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে জরিমানা ও এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও, সেই সালিশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। বর্তমানে অভিযুক্ত রিপন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। ওই সময় তার বাবা-মা চায়ের কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে রিপন জোরপূর্বক তাকে বাড়ির পাশে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছে কিশোরীর পরিবার।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে রিপন স্থান ত্যাগ করে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে গত সোমবার রাতে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশে বসে। জানা গেছে, ওই সালিশে অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান রিপন। সেখানে উপস্থিত বিএনপি’র এক সাবেক নেতার পা ধরে আকুতি জানানোর দৃশ্যও দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে। ভিডিওতে রিপনকে বলতে শোনা যায়, ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি। সালিশ থেকে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার মৌখিক রায় দেয়া হয়।

বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে রিপন কিংবা সালিশকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মাকে থানায় নিয়ে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ ধামাচাপা দিতে বেআইনি সালিশ আয়োজনের পেছনে জড়িতদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন