বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও আপার সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা এবং বন্ধ বা সচল কারখানায় নতুন মূলধন ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগ্রহী দেশীয় কারখানা মালিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নেতৃত্ব দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং সামিহা আজিম। অন্যদিকে ওকাইবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা লুও, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি জেনারেল ভিভিয়ান হুয়াং, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্টিভেন ঝাং এবং সেক্রেটারি টিনা হু।
বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের আপার সাপ্লাই চেইন আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী হলেও নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে তারা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএর সক্রিয় সহযোগিতা ও সমন্বয় কামনা করেন তারা।
এর জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, সংগঠনটি সদস্য কারখানাগুলোর কাছে ইমেইলের মাধ্যমে তথ্য আহ্বান করবে। যেসব উদ্যোক্তা তাদের সচল বা বন্ধ কারখানায় চীনা মূলধন ও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করতে আগ্রহী অথবা শতভাগ মালিকানা কিংবা শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার খুঁজছেন, তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কারখানার নাম ও সার্বিক বিবরণ, কারখানার আয়তন, যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও বিবরণ, কারখানার বর্তমান অবস্থা এবং প্রত্যাশিত অংশীদারিত্বের ধরন উল্লেখ করে তথ্য দিতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কারখানার প্রকৃতি ও সক্ষমতা মূল্যায়নের পর তা ওকাইবের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় কারখানা মালিকদের মধ্যে একটি কার্যকর ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করা হবে।
বিজিএমইএর মতে, এই ওয়ান-স্টপ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ ও রুগ্ন কারখানাগুলো নতুন মূলধন, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সহায়তা পেয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সম্প্রসারণ, উচ্চমূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ আগ্রহী কারখানা মালিক ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের [email protected] ইমেইল ঠিকানায় বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
