কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি জামিনে বের হন। এর আগে তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর গত ২১ এপ্রিল রাতে হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারের ৩ মাস ১৪ দিনের মাথায় তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।
পিবিআই, আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরদিন বিকালে সন্দেহভাজন আসামি সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তনুর পরিধেয় জব্দকৃত জামা-কাপড়ের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনায় একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। উক্ত প্রোফাইলের সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য মামলায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করার আবেদন জানায় পিবিআই। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক দুই জনের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দেন। ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই সন্দেহভাজন হলেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১)। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের মো. সোলায়মান হোসেনের পুত্র। অপর ব্যক্তি ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)।
তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর (রাজাপাড়া) গ্রামের এম এ মান্নানের পুত্র। পিবিআই জানায়, গত ৮ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া আদালত তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার আদেশ দেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় সার্জেন্ট জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। ঘটনার সময় তিনি সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে উভয়ে পলাতক আছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিপিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে জেনেছি। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে সন্দেহভাজন অন্যদের আটক ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, ২ আগস্ট রবিবার হাইকোর্ট থেকে হাফিজুর রহমানের জামিনের আদেশ হয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের কাগজপত্র পেয়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
