নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় ফরম পূরণের সময় প্রতারণার শিকার ৮ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চতর গণিত পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মো. ইমামুল হক নামের এক অভিভাবক। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমার সন্তানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু কলেজের অফিস সহায়কের জালিয়াতির কারণে সে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমরা পাইনি। গত সোমবার এ বিষয়ে জানতে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি। এতে প্রতারণার শিকার ৮ শিক্ষার্থীই এক ধরনের অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেলে পরীক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জানানো হবে। বিষয়টি জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আপডেট তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। তবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী মানবজমিনকে জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। দ্রুত তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে যাই হোক, সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে। তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভারজনিত জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ই মার্চ ২০২৬ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায়, তাদের কারও ফরম পূরণ করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় ৩রা জুলাই ২০২৬ শুরু হওয়া বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি। এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।
