পিনাক-৬ ট্র্যাজেডি’র এক যুগ

আজও থামেনি সদরপুরের সেই পরিবারটির কান্না

ফন্ট সাইজ:

পদ্মার উত্তাল বুকে ‘এমভি পিনাক-৬’ লঞ্চডুবির সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’র আজ এক যুগ (১২ বছর) পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের ৪ঠা আগস্ট তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মায় তলিয়ে গিয়েছিল পিনাক-৬। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সাতরশি গ্রামের মোহাম্মদ মাতুব্বরের পরিবারের সাত সদস্য নিখোঁজ হন, যাদের লাশও শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এক যুগ পার হয়ে গেলেও প্রিয়জনদের হারানোর ক্ষত আর কান্না আজও বয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারটি।

২০১৪ সালের সেই অভিশপ্ত সোমবার সকালে কাওড়াকান্দি-মাওয়া হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ মাতুব্বরের ছেলে সোবাহান মাতুব্বর (৩৫), পুত্রবধূ ইতি আক্তার (২৫), নাতি ইমন মাতুব্বর (৭), কন্যা ফরিদা আক্তার শিমু (৩২), জামাতা রুবেল (৪০) এবং ফরিদার দুই শিশুকন্যা ফায়েজা আক্তার (৮) ও ফাতেমা আক্তার (২)। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বয়সের ভারে ন্যুব্জ মোহাম্মদ মাতুব্বর আজও শিউরে ওঠেন।

তিনি জানান, ওইদিন সকাল ৭টায় তারা সবাই একসঙ্গে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। সকাল ১১টার দিকে মাওয়া ঘাটে লঞ্চডুবির খবর পেয়েই স্বজনদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ছেলে, পুত্রবধূ ও মেয়ে-জামাইয়ের কাছে থাকা চারটি মোবাইল ফোনের সবগুলোই বন্ধ পাওয়া যায়। সেই থেকে মাওয়া ঘাটে অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু, যা আর কখনোই শেষ হয়নি। পদ্মার বুক থেকে পিনাক-৬ উদ্ধার হলেও খোঁজ মেলেনি মাতুব্বর পরিবারের ৭ সদস্যের। সময়ের পরিক্রমায় ১২টি বছর পার হয়ে গেলেও স্বজন হারানোর আহাজারি থামেনি সাতরশি গ্রামে। প্রতি বছর এই দিনটি এলে স্বজনদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, তবে প্রিয়জনদের স্মৃতি আর এক বুক হাহাকার ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন