সিলেটের গোয়াইনঘাটের হাদারপাড় বাজার ও উক্ত বালুমহালের আশপাশে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যন্ত্রদানব ড্রেজার লাগিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনেরাতে সমানতালে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর লুটপাটের মহোৎসব। বারবার নিষেধ করা ও প্রশাসনের একাধিক অভিযানেও থেমে নেই অবৈধভাবে চলে আসা এসব কর্মকাণ্ড। ইজারাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইজারাশর্ত ভঙ্গ করে চলমান এসব তাণ্ডবে দিনেরাতে বিলীন হচ্ছে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট, সাধারণ মানুষজনের বাড়িঘর, ফসলি জমি, স্কুলের মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আবারো পরিচালিত হয়েছে প্রশাসনের অভিযান। ইজারা শর্ত ভেঙে পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের দায়ে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেনের নেতৃত্বে উক্ত বালু মহালে পুলিশ ও বিজিবি এই অভিযান চালায়। অভিযানকালে লুটপাট করে নিয়ে আসা পাথর, নুড়ীপাথর মিশ্রিত বালুবাহী ৩টি নৌকার বডি ফুটো (ক্ষতিগ্রস্ত) করে নৌকাগুলকে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বালির পরিবর্তে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। হাদারপাড়ে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী জানান, প্রশাসন সরকারের তরফে বালু মহাল ইজারা প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু বালুর বিপরীতে চলছে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে পাথর লুটপাট।
নীতিমালা অমান্য করে ইজারাদার গংরা অবৈধ তৎপরতা চালিয়ে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পরিবেশ ও সরকারের মূল্যবান খনিজ সম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন তরফে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারী এ চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
