শেরপুরের নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট সড়ক যেন এখন দুর্ভোগের আরেক নাম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও পিচ উঠে বেরিয়ে এসেছে পাথর-খোয়া, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে সড়কটি পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী পথে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী কয়েক হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনি বাজার থেকে হালুয়াঘাট উপজেলার সংযোগ সড়কের কালাপাগলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত চেহারা নিয়েছে। কোথাও আবার বালু, খোয়া ও পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই বড় গর্তগুলোতে পানি জমে তৈরি হয় মরণফাঁদ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানবাহন, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। গত ২৮শে জুলাই নালিতাবাড়ীতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্থানীয় অবকাঠামোর বেহাল চিত্র তুলে ধরেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে এলাকার অনেক রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। শুধু তাই নয়, নদীর ব্রিজও ভেসে গেছে। বন্যায় অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ এলাকায় এখনো অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর জোরালো ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এমন জরাজীর্ণ দশা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অটোরিকশাচালক শহিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার। নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শরাফ উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
