ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এক সংখ্যালঘু যুবক গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও প্রাণ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদ আলমের (২৮) সঙ্গে আলফাডাঙ্গার ইউসুফেরবাগ হাফেজিয়া মাদ্রাসার ১৪ বছর বয়সের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জেরে গত ২৩শে জুলাই রাতে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যায়। পরদিন তার মা আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে গত ২৭শে জুলাই সাজ্জাদের বোনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছাত্রীর বোনের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আর কোনো অভিযোগ করা হয়নি। বর্তমানে ওই ছাত্রী নিজ বাড়িতেই রয়েছে। এদিকে গত সোমবার একই কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জয় কুণ্ডু প্রাণের মালামাল ইউসুফেরবাগ বাজারে ডেলিভারি করতে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে বিক্রয় প্রতিনিধি সাজ্জাদ ভেবে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে।
এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন জয় কুণ্ডুকে আবারো গণধোলাই দেয়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে। থানার ওসি মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। তার পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাজ্জাদ একাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ছাত্রীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
