সংবাদ সম্মেলন

সিলেটে অবৈধ ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতির অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরের জল্লারপাড়ে মাত্র তিন ফুট রাস্তা সম্বলিত স্থানে সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ, প্রতিবেশীর আলো-বাতাসের অধিকার ক্ষুণ্ন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জল্লারপাড়ের বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়সর রহমান। লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান বলেন, তার বাসার পাশের ১৮ নম্বর বাসায় বসবাস করেন সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রজি উদ্দিন খান এবং তার পরিবারের সদস্য ইসমাইল খান, পিংকু খান, পারভেজ খান ও পারভীন খান।

নিজের প্রভাব খাটিয়ে মো. রজি উদ্দিন খান সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও সেফটি গ্যাপের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই মাত্র তিন ফুট রাস্তা সম্বলিত স্থানে ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, ভবনটি নির্মাণের সময় বাধ্যতামূলক সেফটি গ্যাপ রাখা হয়নি। ফলে ভবনটি তার বাড়ির গা-ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভোগ করে আসা আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে তার পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। ১৮৮২ সালের সুবিধা অধিকার আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী এই অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কয়সর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ভবনটিতে কোনো ফায়ার এক্সিট কিংবা প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দারা বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মাস্টাররোল থেকে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়া মো. রজি উদ্দিন খান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় তিনি নিজের সরকারি কার্যালয়কে কার্যত দলীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করেছিলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। সংবাদ সম্মেলনে কয়সর রহমান জল্লারপাড়ের ১৮ নম্বর বাসার নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চম তলার অবৈধ অংশ অপসারণ, সিসিকের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অবৈধ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে মো. রজি উদ্দিন খানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তার সকল সম্পদের দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন