বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদের আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত দু’টি আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উভয় তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম এবং এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা। এর মধ্যে আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামকে সভাপতি এবং সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মঞ্জুর হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঁঞা, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ। অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের সংঘর্ষ ঘটনায় ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটির সভাপতি হলেন এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা এবং সদস্য সচিব কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এইচ. এম. সাগর। তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেনÑ ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার এবং এনাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক।
আদেশনামা অনুযায়ী, গত ২৩শে জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং ২৪শে জুলাই দুপুর আড়াইটার পর থেকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের কিছু ছাত্রের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এই সামগ্রিক বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরেক আদেশনামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল এবং মাওলানা ভাসানী হলের ছাত্রদের মধ্যে আগস্টের ১ ও ২ তারিখে পর পর ২ দিন সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম বলেন, তদন্তের চিঠি হাতে পেয়েছি। আমরা উভয় হল সরজমিন পরিদর্শন করবো এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো। অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, কমিটির চিঠি পেয়েছি, এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করিনি। কমিটির সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি উপযুক্ত সময় নির্বাচন করবো এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্যক্রম শুরু করবো।
