ট্রাম্পের নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যে মামলা

ট্রাম্পের নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যে মামলা

ফন্ট সাইজ:

৬০টি দেশ থেকে পণ্যে বাড়তি শুল্ক নিয়ে নতুন আইনি লড়াইয়ের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওইসব পণ্যের ওপর প্রশাসনের আরোপ করা নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে। ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তারা বেআইনি বলে দাবি করেছে। সোমবার দায়ের করা মামলায় ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর জোট অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত খামখেয়ালি, অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

জুলাই মাস থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্কের আওতায় এসেছে বৃটেন, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশ। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইনসম্মত কর্তৃত্ব ব্যবহার করে এমন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ওইসব বাণিজ্য মার্কিন ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান অযৌক্তিক এবং তা মোকাবিলা করা জরুরি।

১৯৭৪ সালের ইউএস ট্রেড অ্যাক্ট-এর সেকশন ৩০১ অনুযায়ী জাপান, ব্রাজিল, তাইওয়ানসহ প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অবৈধ শুল্কনীতি চালিয়ে যেতে পারে না।

এতে আরও বলা হয়, ইউএসটিআর যে পরিসরে শুল্ক আরোপ করেছে, তা সংস্থাটির ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক এবং এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে ব্যবহৃত আইনেরও উপহাস করা হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এই অবৈধ শুল্ক পরিশ্রমী মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর নতুন করের বোঝা ছাড়া আর কিছু নয়।

অন্যদিকে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, প্রতিটি ধাপে আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পরও ট্রাম্প আবার কর্মজীবী পরিবার এবং ওরেগনের স্থানীয় ব্যবসার জন্য নতুন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই বেআইনি শুল্কের মূল্য বিদেশি সরকার নয়, আমাদেরই দিতে হচ্ছে। নতুন শুল্ক নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্রাজিল ও জাপান পৃথকভাবে এই পদক্ষেপকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই শুল্ককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি অজুহাত বলে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এদিকে, বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো দেশ কীভাবে প্রমাণ করবে যে তারা জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ডনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক বাণিজ্যনীতি ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের আওতায় আরোপ করা বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশই পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। ক্যাথি হোকুল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইন উপেক্ষা করে এই প্রশাসন ব্যাপক শুল্ক আরোপ করতে পারে না।

আদালতের ওই রায়ের ফলে শুল্ক পরিশোধকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, আমদানি শুল্ক মার্কিন শ্রমিকদের সুরক্ষা দেয় এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে পরে বিশ্বব্যাপী সব আমদানির ওপর অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থা জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। এদিকে, উৎপাদন সক্ষমতা অতিরিক্ত থাকার অভিযোগে বর্তমানে ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সামনের দিনগুলোতে আরও নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন