ঘোষণার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি পোশাক আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ৬০ লাখ টাকা

ফন্ট সাইজ:

আমদানি ঘোষণার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি পোশাক এনে শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। যেখানে প্রায় ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য রয়েছে। এক বিবৃতিতে সিআইআইডি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল আমদানিকারক এসবি ট্রেডার্স-এর একটি পণ্যচালানে অভিযান চালিয়ে ঘোষণাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পোশাক জব্দ করে।

সংস্থাটি জানায়, গত ৩০শে জুলাই বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৭৬৫৪৮৫-এর আওতায় আমদানি করা চালানটি খালাসের ঠিক আগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আটকে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। আমদানিকারক ঘোষণাপত্রে ২ হাজার ৬৯৯ পিস পোশাকের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ৪ হাজার ৩১৯ পিস। অর্থাৎ ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত পাওয়া যায় ১ হাজার ৬২০ পিস বা ৬০.২ শতাংশ বেশি পণ্য।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, কায়িক পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের পোশাকে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। ঘোষণায় ২৯ পিস সাধারণ লেহেঙ্গা থাকলেও পাওয়া যায় ৪৮ পিস। ১৩ পিস জমকালো লেহেঙ্গার পরিবর্তে পাওয়া যায় ৫০ পিস। ১১২ পিস উচ্চমানের শাড়ির পরিবর্তে পাওয়া যায় ১২০ পিস। এছাড়া ১১২ পিস উন্নতমানের শাড়ির স্থলে ৮০৩ পিস, ১৭৯ পিস মাঝারি মানের শাড়ির পরিবর্তে ৯০০ পিস, ১২৮ পিস মেয়েদের পোশাকের সেটের বদলে ১৪০ পিস, ১৮ পিস শেরওয়ানির পরিবর্তে ১২০ পিস এবং ৯৪ পিস গেঞ্জির বদলে ১২৪ পিস পাওয়া যায়।

এছাড়া ঘোষণায় ১৮৭ পিস গাউনের কথা উল্লেখ থাকলেও পাওয়া যায় ১০০ পিস গাউন এবং অতিরিক্ত ৮৭ পিস সাধারণ লেহেঙ্গা, যা ঘোষণার সঙ্গে স্পষ্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।

অভিযানে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৯ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকির অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে দাবি কাস্টমস গোয়েন্দার। জরিমানা বিবেচনায় মোট আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিস্তারিত প্রতিবেদন ঢাকা কাস্টম হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন