৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক তরুণ প্রকৌশল শিক্ষক বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিডব্লিউআর) অনুযায়ী, নাথান থমাস ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পান।
এর আগে এই রেকর্ডটি টানা ৩০৬ বছর ধরে ধরে রেখেছিলেন কলিন ম্যাকলরিন। তিনি ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

নাথান থমাস বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে অধ্যাপক হয়েছেন। আলিয়া সাবুর ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে নাথান থমাস মিয়ামি ডেড কলেজে ‘কপ ২২৭০: সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন।

মজার বিষয় হলো, তিনি যেসব শিক্ষার্থীকে পড়াতেন, তাদের অনেকেই ছিলেন তার সমবয়সী। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাথান বলেন, শ্রেণিকক্ষে সবাই একই উদ্দেশ্যে আসে- শেখার জন্য। সেখানে বয়স খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কাজটি ভালোভাবে করার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের সাহায্য করি। কেউ যদি শেখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে নাথান তার শিক্ষার্থীদের জটিল কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিং বিষয় পড়ান। নাথানের শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ডুয়াল এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পরে ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন।
পরবর্তী চার বছরের মধ্যে তিনি বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর- উভয় ডিগ্রিই সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

প্রকৌশলী পরিবারের সন্তান নাথান জানান, ছোটবেলা থেকেই গণিত তার কাছে সহজ মনে হতো। তিনি বলেন, আমার মা কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু পরে উপলব্ধি করেছি, সেটিই আমার শেখার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

শিক্ষকতা সম্পর্কে নাথান বলেন, তার সবচেয়ে ভালো লাগে সেই মুহূর্তটি, যখন কোনো শিক্ষার্থী প্রথমে অসম্ভব মনে হওয়া একটি বিষয় হঠাৎ করেই বুঝে ফেলে। তার মতে, সেই অনুভূতিই শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।