আইনজীবী না পাওয়ায় লঘু অপরাধে প্রায় আড়াই মাস কারাবন্দি থাকা ৭ আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গত রোববার (২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতে তাদের জামিনের আবেদন করেন লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল। আদালতের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আদালতের ওই সূত্র জানায়, শুনানি শেষে ওই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত আরা তুসি তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন-ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৮ বছরের কম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনায় গত আড়াই মাস ধরে তারা কারাগারে আছেন।
আইনজীবীদের একটি সূত্র জানায়, গত বুধবার (২৯ জুলাই) দৈনিক মানবজমিনে ‘লঘু অপরাধে কারাগারে দুই মাস, আইনজীবী পাচ্ছেন না কারাবন্দি ৭ আসামি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী সমিতিতে একটি বৈঠক হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আইনজীবীকে জামিন আবেদনের অনুমতি দেয়নি আইনজীবী সমিতি। পরে জেলা লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে নিযুক্ত আইনজীবী মো. ইসমাইল তাদের জামিনের আবেদন জানান।
মানবজমিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনায় হওয়া মামলায় ২ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন সাতজন আসামি। এই সময়ের মধ্যে তাদের জামিনের আবেদন করা সম্ভব হয়নি। এই মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আসামিদের জামিনের জন্য কোনো আইনজীবী পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে আইনজীবী নিয়োগের জন্য আসামিদের পক্ষে আবেদন জানায়।
পরে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ওই মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেন। কারাবন্দির স্বজনরা জানিয়েছিলেন, মামলার বাদী আইনজীবী হওয়ায় কোনো আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দীর্ঘদিন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা আইনজীবীর সহযোগিতা পাওয়া ও আদালতে জামিনের আবেদন করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন বলেন, আইনজীবী সমিতিতে হাতাহাতির ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা মেডিকেল রিপোর্টও হাতে পেয়েছি। এটি আইনের ৩২৩ ধারর অধর্তব্য অপরাধে পড়ে। দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে মামলার বাদী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসিব জানান, যে কোনো আইনজীবী মামলা লড়তে পারবেন, বারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে কোনো মামলা গ্রহণ বা বর্জনের ব্যাপারটি আইনজীবীদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। যারা কারাগারে আছে তারা আইনজীবীদের মারধর করেছে। পরে বারের সিদ্ধান্তে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। তবে আইনগত সহায়তা পেতে আসামিরা হকদার। আমাদের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ লিগ্যাল লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মো. আবু সাঈদ বলেন, যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিরই আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার সারা পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত ও সাংবিধানিক অধিকার। তিনি যত বড় অপরাধে অভিযুক্ত হোক না কেনো তাকে পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবেনা। এটা ন্যায়বিচারের অন্যতম একটি মূলনীতি। যদি সেই অপরাধী আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে যায় তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের। তবে আইনজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় কোনো আইনজীবী যদি আসামীদের পক্ষে দাঁড়াতে না চায় তাহলে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুযায়ী আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে অবশ্যই আসামীদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
