রাজধানীর কলাবাগানে ঘটেছে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে শিপন (৩০)। এরপর এক বছর বয়সী শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে নিজেই থানায় হাজির হয়। পুলিশ ঘাতক শিপনকে আটক করেছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকার আল-আমিন মসজিদ-সংলগ্ন ৫২/২ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শিপনের স্ত্রী ফারজানা বেগম ওরফে রাত্রি (২০) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৮)। আর ঘাতক শিপন পিকআপ ভ্যানচালক। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রাত্রিকে বিয়ে করে শিপন। বিয়ের পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে দুই বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে সালিশের মাধ্যমে দ্বন্দ্বের সমাধান করে ফের একসঙ্গে সংসার শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে তাদের সংসারে আসে পুত্রসন্তান। সম্প্রতি ফের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে শিপন।
শিপন প্রায়ই একটি পিকআপ কিনে দেয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার ফারজানা চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট যান। এ সময় মাদকাসক্ত দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে শিপনও যায়। এ নিয়ে শিপনের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে শিপন অনুষ্ঠান শেষ না করেই ঢাকায় ফিরে আসে। পরদিন শনিবার রাতে রাত্রি ও তার মা ফিরোজা বেগম ঢাকায় ফেরেন। রোববার সকালে শিপন কলাবাগানে শ্বশুরবাড়িতে আসে। এ সময় শিপনের সঙ্গে স্ত্রীর ফের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাত্রির মা ফিরোজা মেয়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিপন উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই রাত্রি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক বলেন, সকাল ৯টার দিকে স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় স্বামী শিপনের। পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়ি এবং স্ত্রীকে আঘাত করে সে। পরে ঘটনাস্থলে রাত্রি মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর শিপন নিজেই থানায় এসে হাজির হন।
