আইন কর্মকর্তা নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ তদন্তের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশ। রোববার সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ করেন তারা। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে যোগ্য, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত এবং পেশাগতভাবে দক্ষ আইনজীবীদের নিয়োগের দাবি জানান তারা।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগে অনেক যোগ্য ও দীর্ঘদিন দলের পক্ষে সক্রিয় আইনজীবীকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে এবং বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক ডিএজি আশিকুজ্জামান নজরুল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তার ভাষ্য, নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই বিএনপি বা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।

বাদ পড়া আরেক ডিএজি মাসুদ রানা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের ভূমিকা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ ছাড়া আইনজীবী আকতার হোসেন, শরীফ ইউ আহমেদ, আইয়ূব আলী আশরাফী, মো. ইসা, এবিএম ইব্রাহীম খলিল, আনিসুর রহমান খান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আনোয়ারা শিখাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মানবজমিনকে বলেন, কেউ অভিযোগ করলে সেটি প্রমাণ করার দায়িত্বও অভিযোগকারীর। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একটি সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।

রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে তিনি আরও বলেন, আমি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নই, আমিও একজন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি। অভিযোগ গুরুতর হলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু খামাখা অভিযোগ তুলে একটি সুন্দর প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। সাম্প্রতিক নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মোট ৩৩৭ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার প্রয়োজন বিবেচনায় সেই সংখ্যা কমিয়েছে। ফলে অনেককে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়নি, যা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বা প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তার মতে, সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগে আগের অনেক আইন কর্মকর্তাকেও রাখা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হয় এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অন্তত পাঁচ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, সরকার যোগ্যতা বিবেচনা করেই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের প্রায় ৮০ শতাংশ আগের নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকেই রাখা হয়েছে এবং নতুনদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আইন কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্ব পালনের মানসিকতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ৩০শে জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দু’টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয়। দুই দিনের সরকারি ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসেই এই নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন