চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২.৮৫ বিলিয়ন (২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৪০ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬.৪৮ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার আসলেও গত দুই মাস ধরে নিম্নমুখী ধারায় চলে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের উপরে ছিল।
ডিসেম্বর মাসে আসে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩.১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩.০১ বিলিয়ন, মার্চে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৩.১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে তা কমে ২.৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। আর জুনে কিছুটা বেড়ে হয় ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ থেকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার (২.৮৫৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ১৬০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। মাসের প্রথম ২১ দিনে আসে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২৭ দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। আর ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স পৌঁছায় প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। জুলাই মাসে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি আগের অর্থবছরের ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭.৩০ শতাংশ বেশি।
