টেকনাফ-কক্সবাজার প্রধান সড়কে দিনদুপুরে চলন্ত বাস থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল বিকাশকর্মীদের ছুরিকাঘাত করে আনুমানিক ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। ডাকাতির সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ডাকাত দল গুলিবর্ষণ করে। রোববার দুপুর ১টার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের দমদমিয়া গ্রামের ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন বেতবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিকাশের সেলসম্যান আরমান, সাকিব ও একরাম যাত্রীবাহী ‘পালকি পরিবহন’র একটি বাসে করে টেকনাফের দিকে যাচ্ছিলেন। বাসটি ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন বেতবাগান এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দল মহাসড়কে গাছে পেরেক দিয়ে ফেলে বাসের গতি রোধ করে। বাস থামামাত্রই ডাকাত দল ভেতরে ঢুকে অস্ত্র ও ছুরি উঁচিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় তারা বিকাশকর্মী আরমান ও একরামকে ছুরি দিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে তাদের কাছে থাকা ক্যাশ কালেকশনের প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় ডাকাতরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন মো. আরমান। তিনি টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং হ্নীলা ও লেদা এলাকার বিকাশের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিকাশের অপর কর্মী সাকিব জানান, তারা প্রতিদিনের মতো নিরাপদ মনে করেই যাত্রীবাহী বাসে যাতায়াত করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এভাবে দিন-দুপুরে হামলার শিকার হবেন- তা কল্পনার বাইরে ছিল। ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা আহত দুই বিকাশকর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়। আহত বিকাশকর্মী মো. আরমান বলেন, ডাকাত দলের সঙ্গে বাসচালক বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ ছিল কি না- তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
কারণ আমরা নগদ টাকা বহন করছি- এ তথ্য দুর্বৃত্তরা কীভাবে জানলো, তা আমার বোধগম্য নয়। এ ছাড়া, ডাকাতরা গুলি ছুড়তে শুরু করার পরও বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে কেন থেমে ছিল, সেটিও রহস্যজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারগামী একটি বাস থামিয়ে বিকাশকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
তবে লুট হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দিনের আলোতে ব্যস্ত মহাসড়কে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় পথচারী, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পৃথক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছেন।
