সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার বিভিন্ন সড়কে শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ যেন ধোবাউড়াবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। বেহাল গ্রাম্য সড়কে থমকে আছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। কাদামাটি ও ভাঙাচোরা পথে মানুষের সংগ্রাম নিত্যদিনের। জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে রোগী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এ ছাড়া, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। পাকা সড়কগুলোও সংস্কারের অভাবে গর্ত এবং খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধোবাউড়া-চারুয়াপাড়া।
প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ডুবে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধোবাউড়ায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৩৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে উপজেলা সড়ক ১০৬ কিলোমিটার, যার পাকা ৭০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১০০ কিলোমিটার, যার পাকা ৩৭ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ (ভিলেজ) সড়ক ৩৩২ কিলোমিটার, যার মধ্যে পাকা মাত্র ৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ মোট ৫৩৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ১১৭ কিলোমিটার পাকা, যা মোট সড়কের ২১.৮ শতাংশ। বাকি ৭৮.২ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা বা অনুন্নত।
যা একটি সীমান্তবর্তী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। কাশিনাথপুর গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের কাশিনাথপুর বাজার থেকে কৃষ্ণপুর স্কুল পর্যন্ত রাস্তাটি কাদামাটিতে খুবই বেহাল অবস্থা। বেতগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কগুলো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে আরও বেকায়দায় পড়তে হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দো ভূষণ বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ রাস্তাগুলোর তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ২৭টি নতুন সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এ ছাড়া, গ্রামীণ সড়কগুলোকে টেকসই করতে দুই শতাধিক কালভার্ট দরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
