কেটে যাচ্ছে অর্ধ যুগ আসছে না তেল

চিলমারী ভাসমান তেল ডিপো

কেটে যাচ্ছে অর্ধ যুগ আসছে না তেল

ফন্ট সাইজ:

কেটে যাচ্ছে প্রায় অর্ধ যুগ। তেল আনার চেষ্টা না করলেও ডিপোর যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টার কমতি রাখছে না কর্তৃপক্ষ। অচল হয়ে পড়ে থাকা কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নোঙর করা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন ভাসমান তেল ডিপোর (মেঘনার বার্জ) প্রধান মিটার ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে খুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা মিটার খুলে নেয়ার চেষ্টার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের নন্দীরমোড় এলাকায় নোঙর করা মেঘনা অয়েল কোম্পানির ভাসমান ডিপোতে বাঘাবাড়ী মেঘনা ডিপোর অফিস সহকারী আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী যান। অভিযোগ উঠেছে, তারা ডিপোর জ্বালানি পরিমাপের প্রধান মিটারের তালা খোলার ও যন্ত্রাংশ অপসারণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকট এবং বড় জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণ দেখিয়ে প্রায় অর্ধ যুগ আগে চিলমারীর দু’টি ভাসমান তেল ডিপোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। মেঘনা অয়েল কোম্পানির বার্জটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তেলশূন্য অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ডিপো তেল শূন্য রেখে বিভিন্ন সময় সরিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতের আঁধারে মেঘনা বার্জের মিটার ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ডিপোতে রাত্রীকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বরতরা মিটার খুলতে আসা দলটিকে প্রথমে বার্জে উঠাতে অনীহা প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষের চিঠি আছে বলে ডিপোতে ওঠে খুলতে আসা টিমটি। এরপর মিটার ঘরের তালা চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভাঙতে উদ্যত হয়। এ সময় তালা ভাঙার শব্দ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পাশে থাকা তেল ডিলার হযরত আলী এগিয়ে এলে দলটি সটকে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তরাঞ্চলের কৃষি, নৌপরিবহন এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিলমারীর ভাসমান ডিপো দু’টি একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা জনসম্মুখে সিদ্ধান্ত ছাড়াই রাতের বেলায় যন্ত্রাংশ খুলে নেয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তেল ডিলার হযরত আলী বলেন, রাতের অন্ধকারে মিটার খুলে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এলাকার মানুষ বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে তারা চলে যায়।

চিলমারীর এই ডিপো সরানোর কোনো উদ্যোগ হলে আমরা তা মানবো না। এ বিষয়ে মেঘনা তেল ডিপোর ভারপ্রাপ্ত ডিপো সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, রংপুর অঞ্চলে বর্তমানে তেলের সংকট রয়েছে। বাঘাবাড়ী ডিপোতে জ্বালানি সরবরাহের চাপও বেশি। সেখানে ব্যবহৃত মিটারটিতে ক্রটি দেখা দিয়েছে। চিলমারীর ডিপোটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় এখানকার মিটারটি সাময়িকভাবে বাঘাবাড়ীতে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাঘাবাড়ীর মিটারটি মেরামত হলে চিলমারীর মিটার আবার ফিরিয়ে দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন