নাগেশ্বরীর সেতু যেন মরণফাঁদ

নাগেশ্বরীর সেতু যেন মরণফাঁদ

ফন্ট সাইজ:

সেতু তো নয়, যেন মরণফাঁদ। সেতুর নেই দু’পাশের রেলিং। পাটাতনের অনেক বড় জায়গা জুড়ে ভেঙে গেছে। দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠে বুক। বন্ধ রয়েছে ভারী যান চলাচল। শুধু পাটাতন নয়, বিশাল গর্ত রয়েছে সেতুর মোকাতেও। আশঙ্কা রয়েছে যেকোনো মুহূর্তে ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তবুও পুরাতন এই সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
সরজমিন দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের আলেপের তেপতি থেকে সন্তোষপুর, নাওডাঙ্গাপাড়া, কুটি নাওডাঙ্গা স্কুলেরহাট, তালেবেরহাট হয়ে বয়তুল্যার মোড়ের মাঝামাঝি নাওডাঙ্গা ও নিমকুশ্যা বিলের উপর নির্মিত এই সেতু। সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করে নেওয়াশী, রায়গঞ্জ, সন্তোষপুর, রামখানা ইউনিয়নের ব্যাপারীহাট এলাকাসহ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ।

এ ছাড়াও সন্তোষপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সন্তোষপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুটি নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মণ্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৃষ্টি মডেল পাবলিক স্কুল ও সূর্যমুখী শিশু নিকেতনসহ কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সেতুর করুণ অবস্থা হওয়ায় ভয়ে স্কুলেও যেতে চায় না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যেন এসব এলাকার মানুষের ভাগ্যের বিপরীতে এই সেতু। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, হাটবাজার করাসহ বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত বড় কষ্টের।

তাদের দাবি অবিলম্বে সেতুটি ভেঙে দিয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করে এখান থেকে আলেপের তেপতি সড়কের তালতলা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটির পাকাকরণের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা। এলাকার আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজু, মোহর আলী জানান সেতুটি দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন পার করা যায় না। কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটবাজারে নিয়ে যাওয়াও কষ্টসাধ্য হয়েছে। অপরদিকে ব্রিজ থেকে সন্তোষপুর নাওডাঙ্গাপাড়া হয়ে তালতলা পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা থাকায় বৃষ্টিতে হাঁটুকাদা জমে চলাচল করা দুরহ হয়ে পড়েছে। তবুও সুদৃষ্টি নেই কর্তৃপক্ষের। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন