ওমর আবদুল্লাহ ও পায়েল আবদুল্লাহর ৩১ বছরের দাম্পত্যের ইতি ঘটলো

ওমর আবদুল্লাহ ও পায়েল আবদুল্লাহর ৩১ বছরের দাম্পত্যের ইতি ঘটলো

ফন্ট সাইজ:

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং তার দীর্ঘদিনের পৃথকভাবে বসবাসীকারী স্ত্রী পায়েল আবদুল্লাহর বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার আদালতকে জানানো হয়, উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সব বিরোধের নিষ্পত্তি করেছেন এবং স্বাধীনতাকে আলিঙ্গন করেছেন। বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও আলোক আরাধের বেঞ্চে ওমর আবদুল্লাহর করা আপিলের শুনানিতে তার আইনজীবী জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষের সব বিরোধ মিটে গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজ১৮।

সিব্বল আদালতে বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উভয় পক্ষ যৌথভাবে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, দু’জনই স্বাধীনতাকে আলিঙ্গন করেছেন। সব বিষয় মিটে গেছে। আদালত চাইলে এখন বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ দিতে পারেন। বাকি সব মামলাও প্রত্যাহার করা হবে। এর জবাবে বেঞ্চ বলেন, এটি ভালো হয়েছে। আমরা ওই শর্তেই মামলার নিষ্পত্তি করছি।

ওমর আবদুল্লাহ ও পায়েল আবদুল্লাহ ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই ছেলে জাহির ও জামির। তবে ২০০৯ সাল থেকেই তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন। পরে ২০১১ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ওমর আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট এ দম্পতিকে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করতে নির্দেশ দিয়েছিল।

এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট ওমর আবদুল্লাহর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং ২০১৬ সালে পারিবারিক আদালতের দেয়া রায় বহাল রাখে। প্রথমদিকে ওমর আবদুল্লাহ স্ত্রীকে পরিত্যাগ এবং নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তবে দিল্লি হাইকোর্ট রায়ে বলে, তার আনা নিষ্ঠুরতার অভিযোগগুলো অস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, পায়েল আবদুল্লাহ শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করেছেন- এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ওমর উপস্থাপন করতে পারেননি।

রায়ে আদালত বলে, পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা কোনো ত্রুটি দেখি না। নিষ্ঠুরতার অভিযোগগুলো ছিল অস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নয়। আপিলকারী এমন কোনো শারীরিক বা মানসিক আচরণের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে নিষ্ঠুরতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট তাদের বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন