রাকসু’র জিএসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

রাকসু’র জিএসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ ৯ জন রাকসু প্রতিনিধি ও শিবির নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলার আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলার মতিহার থানা আমলী আদালতে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের পিতা এম. এস. আজাদ-উজ-জামান বাদী হয়ে আবেদনটি করেন।

তার বাড়ি জেলার চারঘাট উপজেলার আসকপুর গ্রামে। ছেলে মাহমুদুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র।
পরে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী হযরত আলী। তিনি বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলো- রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, তথ্য ও গবেষণা উপ-সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদ ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ, শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব, ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা। এ ছাড়াও ১৭/১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭শে জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থানের সময়ে ১৯-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করে। প্রধান আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে একাধিকবার আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে এম্বুলেন্সে তুলতে গেলেও, তাকে সেখান থেকে নামিয়ে একাধিকবার হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়।

থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পরদিন বাদী মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান মাহিনের পিতা আজাদ-উজ-জামান জানান, ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি হামলার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। ২৮শে জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নেয়ার পরামর্শ দেন।

এর আগে, গত সোমবার মাহমুদুল হাসান মাহিনসহ তিন শিক্ষার্থীকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজাসহ রাকসু ও শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর ভেতর মাহমুদুলকে প্রক্টরিয়াল বডি উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে তিন দফা বেধড়ক পেটানো হয়। পরে তাকে এবং আরেক শিক্ষার্থী আনাস আহম্মেদকে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরী শাহ মখ্‌দুম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া আগের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন