ভুয়া জন্মনিবন্ধন করে ১১ বছরের শিশুকে বিয়ে, চাঞ্চল্য

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের কুরবাননগর ইউনিয়নে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে ১১ বছরের এক শিশুকে ১৯ বছর বয়সী দেখিয়ে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় অবশেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের নির্দেশনার পর ইউনিয়ন পরিষদ রোববার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারিতে ‘বিয়ের পিঁড়িতে ১১ বছরের শিশু’ শিরোনামে মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সংবাদের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিবেদন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের কাছে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ছয় মাস পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদে নাবালিকা শিশুর প্রকৃত পরিচয় পরিবর্তন করে ‘আকলিমা বেগম’ নামে একটি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, শিশুটির বাবা-মা, তথ্য যাচাইকারী ইউপি সদস্য ছকিনা বেগম, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যদের প্ররোচনায় একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বয়স বাড়িয়ে ওই জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৫(৩) অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য প্রদত্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। একই আইনের ধারা ২১(২) অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া ধারা ২২ অনুযায়ী নিবন্ধক বা রেজিস্ট্রার জেনারেল কিংবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এসব বিধান উল্লেখ করে অভিযুক্ত রেনু মিয়া, সাবিনা বেগম, তথ্য যাচাইকারী ছকিনা বেগম, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং প্ররোচনাকারী পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের সভায় রোববার মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিতালী তালুকদার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হবে। এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী রোববার মামলা হবে। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সুবিধা ইউনিয়ন পরিষদের সার্ভারে যুক্ত করার আশ্বাসও পেয়েছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে গত মাসে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা আসে। সেই অনুযায়ী কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধক, অর্থাৎ চেয়ারম্যানকে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১লা জানুয়ারি মাইজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে বয়স ১১ বছর হলেও বিয়ের নিকাহ্‌নামা ও নতুন জন্মনিবন্ধনে তার বয়স ১৯ বছর দেখানো হয়। বিয়ের মাত্র পাঁচদিন আগে একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই নতুন জন্মনিবন্ধন ইস্যু করা হয়। অথচ ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় ব্যবহৃত জন্মনিবন্ধনে শিশুটির জন্মসাল ছিল ২০১৫। প্রথম নিবন্ধনের সব তথ্য ঠিক রেখে শুধু নামের সঙ্গে দু’টি অক্ষর যোগ করে নতুন জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয় এবং সেটির ভিত্তিতেই কাজী বিয়ে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের দেনমোহর ও পারিবারিক বিরোধের জেরে কনের বাবা থানায় অপহরণ ও বাল্যবিবাহের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় বর ইমন রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন