নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলে বাংলাদেশের গ্রুপে খেলবে নেপাল

সাফের ড্র আজ

নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলে বাংলাদেশের গ্রুপে খেলবে নেপাল

ফন্ট সাইজ:

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র আজ। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে এই ড্র অনুষ্ঠান। আগামী ৪ থেকে ১৭ই নভেম্বর ঢাকায় বসতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে নেপালের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সাফের সাত সদস্য দেশের মধ্যে ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় আজকের ড্রতে থাকছে না নেপাল। বাকি ছয় দল নিয়ে হবে ড্র অনুষ্ঠান। দলগুলো হচ্ছে- শিরোপাধারী ভারত, স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ড্র-তে নেপালের না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল বলেন, ‘ছয় দলের ড্র হবে। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় নেপাল ড্র’তে থাকছে না।’ তবে নেপালের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ক্যাটেল জানিয়েছেন, ড্রয়ের আগে আজ সকালে বসবে সাফের নির্বাহী সভা। যেখানে নেপালকে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে। ক্যাটেল বলেন, ‘সকালে সাফের নির্বাহী সভা রয়েছে। সেই সভায় নেপালের জন্য একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তারা টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে আর না হলে সুযোগ নেই।’ জুন মাসে নির্বাচন-সংক্রান্ত জটিলতায় নেপাল ফুটবল সংস্থা (আনফা)কে নিষিদ্ধ করে ফিফা। এতে নেপালের সব বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দল, এমনকি ক্লাব ফুটবলও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বাদ পড়ে। এরপরই ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া সাফে নেপালের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আনফাকে যেসব শর্ত মানতে হবে, তা নিয়ে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে চলছে টানাপোড়েন। ফলে সময়মতো জট খুলবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ড্র অনুষ্ঠানে শুধু গ্রুপিং নয়, পুরো টুর্নামেন্টের ফিকশ্চারও জানা যাবে। আর নেপালের কথা মাথায় রেখে বিকল্প সূচিও প্রস্তুত রেখেছে সাফ। এ প্রসঙ্গে পুরুষোত্তম ক্যাটেল বলেন, ‘নেপাল ফিফার নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলে স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপে খেলবে। স্বাগতিক দেশকে একটি ম্যাচ বেশি খেলানোর জন্য নেপালকে স্বাগতিক গ্রুপে রাখা হবে। ড্র অনুষ্ঠানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হবে।’ ছয় বা সাত-দুই ধরনের সমীকরণ মাথায় রেখেই টুর্নামেন্টের কাঠামো সাজিয়েছে সাফ। ছয় দলের টুর্নামেন্ট হলে দুই গ্রুপে থাকবে তিনটি করে দল, প্রতি গ্রুপে হবে তিনটি করে ম্যাচ। নেপাল যোগ হলে এক গ্রুপে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে চারে। বাড়বে ম্যাচও। তবে সূচিতে কোনো হেরফের হবে না বলেই দাবি সাধারণ সম্পাদকের।

তিনি বলেন, ‘এক গ্রুপে চার দল থাকলে সেই গ্রুপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে ছয় হলেও নির্ধারিত সুচিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব। ছয় কিংবা সাত দল হলে ম্যাচের পর বিরতি এক দিন কম বেশি হবে কিন্তু সূচি অনুযায়ী শেষ হবে। আমরা ছয় ও সাত উভয় ধরেই ফিকশ্চার প্রকাশ করবো।’ ফিফা র?্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে এবারের আসরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দল ভারত। তাদের অবস্থান ১৩৮তম। তালিকায় সবার নিচে থাকা পাকিস্তানের অবস্থান ১৯৮তম। মাঝে রয়েছে মালদ্বীপ (১৭৩), নেপাল (১৭৭), বাংলাদেশ (১৮১), শ্রীলঙ্কা (১৮৭) ও ভুটান (১৯২)। দুই বছরের বিরতি শেষে মাঠে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। চতুর্থবারের মতো এই আসরের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে। ইতিমধ্যে বর্ণাট্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় এবারের আসরের লোগো উন্মোচন করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন