জুলাই কারও একক অর্জন নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের দুর্নীতি নিয়ে বলা বক্তব্য উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পাঁচ মাসে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে বলে বিএনপি’র মহাসচিব নিজেই স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রয়েছে কি না- সেই প্রশ্নও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, তাদের দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, পাঁচ মাসের এই সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তার বাসায় সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, একজন ছাড়া- তিনি তারেক রহমান। আমি বুঝলাম না, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না অথচ সবাই দুর্নীতি করছে- এটা কীভাবে হয়?
তিনি বলেন, আমরা দেখি তার (প্রধানমন্ত্রী) ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না- সেটাই প্রশ্ন।

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। দায়িত্ব নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছিলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেয়া হলে সেটিকে চাঁদা বলা যাবে না। এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় চাঁদাবাজিকে জাতীয় স্বীকৃতি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াত আমীর বলেন, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি; বরং শ্রমিকরা এখনো নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহন শ্রমিকরা নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কারা করছে, সেটি পরিষ্কার- সরকারি দলের লোকরাই করছে।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি নির্মূল করুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চললে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চললে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। শহীদদের কোনো দলীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়; তারা পুরো জাতির সম্পদ।
জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান দেয়ার দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতেও দেশপ্রেমিক ও সাহসী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা এই বাংলাদেশের জনগণের জন্য লড়াই করতে চাই, তাদের হাতে তাদের অধিকার তুলে দিতে চাই। এর আগে আমরা থামবো না, ইনশাআল্লাহ্‌। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সেই রায় মানতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা। সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, পরিশুদ্ধ হন, সৎ পথে চলুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন, চাঁদাবাজি নির্মূল করুন। অন্যথায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলার দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন