ভারতে ডিজিটাল গ্রেপ্তার একটি ছোট, কিন্তু অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উচ্চ-মূল্যের প্রতারণা। এই প্রতারণা দিন দিন বাড়ছেই। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারকদের প্রধান লক্ষ্য প্রবীণরা। এই প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয়দের সারাজীবনের সঞ্চয় প্রতারকদের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়। ভারতীয়দের কাছ থেকে ডিজিটাল গ্রেপ্তারের নামে অন্তত ৩,০০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে।
ডিজিটারল গ্রেপ্তারের প্রথম ধাপে প্রতারকরা সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, কাস্টমস, আদালত বা রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তা সেজে আগে থেকে রেকর্ড করা বার্তা বা সরাসরি কলের মাধ্যমে নিদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।
ভুক্তভোগীদের একটি সাজানো 'পুলিশ স্টেশন'-এর পটভূমিতে ভিডিও কলে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের ভুয়া ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), সন্দেহভাজনদের তালিকা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয় । বলা হয় যে, অর্থ পাচার, মাদক পাচার বা সন্ত্রাসবাদের মতো অপরাধের জন্য তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ভুক্তভোগীদের লাইনে থাকতে — যাকে 'ডিজিটাল গ্রেফতার' বলা হয়। এবং 'যাচাইকরণের' জন্য অর্থ স্থানান্তর করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট দাখিল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের সাধারণত ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা ভিডিও কলে রাখা হয়। ফলে তারা কার্যত পরিবার, ব্যাংক এবং পুলিশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিবিআই গত বছরের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টকে একটি সিল করা খামের প্রতিবেদনে জানায় যে, শুধুমাত্র এই জালিয়াতির মাধ্যমেই প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। বেঞ্চ তখন বলেছিল, সমস্যাটি "আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বড়" এবং এর মোকাবিলা "কঠোরভাবে" করা প্রয়োজন।
যে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয়দের সারা জীবনের সঞ্চয় প্রতারকরা হস্তান্তর করতে বাধ্য করে, সেই বিষয়ে একটি নতুন আইনি বিধান আনতে যাচ্ছে সরকার।
ভারত শীগগিরই “ডিজিটাল অ্যারেস্ট” কেলেঙ্কারিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করতে পারে বলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে সরকার। এদিকে, শীর্ষ আদালত এমন একটি প্রতারণা মোকাবেলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা এবং একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সব ধরনের সাইবার প্রতারণার কারণে ভারতীয়দের ২২,৮৪৫.৭৩ কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০৬ শতাংশ বেশি।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল এবং সিটিজেন ফিনান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই বছরে ২২ লক্ষেরও বেশি সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশই অনলাইন আর্থিক প্রতারণার ঘটনা।
এই পরিধির মধ্যে, ডিজিটাল গ্রেপ্তার একটি ছোট কিন্তু অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উচ্চ-মূল্যের প্রতারণা বলে বলা হয়েছে।
ভারতে ডিজিটাল গ্রেপ্তারের নামে বাড়ছে প্রতারণা, মোকাবিলায় আইন আনছে সরকার
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
৩১ জুলাই (শুক্রবার), ২০২৬, ১ঃ৫৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
