সিলেটে এনসিপি’র গাড়িতে হামলাকে ঘিরে উত্তেজনা

সিলেটে এনসিপি’র গাড়িতে হামলাকে ঘিরে উত্তেজনা

ফন্ট সাইজ:

সিলেটেও এনসিপি’র গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকালে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য এনসিপি’র নেতারা ছাত্রদলকে দায়ী
করেছে। তবে ছাত্রদল নেতারা এনসিপি’র এ অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সিলেটে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে অবস্থানের পর রাতে সিলেট সার্কিট হাউজে ফেরেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। রাত কাটানোর পর সকালে তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে দুপুর একটার দিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের টিম গোলাপগঞ্জের সাত শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। পৌর মিলনায়তনে এজন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এনসিপি’র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তবে অডিটোরিয়ামে সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতারা শহরের চৌমুহনীর পৌরসভার সামনের এলাকায় অবস্থান নেন। তারা এনসিপি’র নানা বক্তব্যের প্রতিবাদে স্লোগানও দেন। এক পর্যায়ে তারা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলেও স্লোগান দেন। এ অবস্থায় পৌর শহর ও আশপাশ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ পরিবারের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এনসিপি নেতারা। এ সময় পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের স্কট দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। এনসিপি’র গাড়ি বহরে উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিসের গাড়িটি ছিল পেছনে।

পৌর শহরের চৌমুহনী এলাকায় আসা মাত্র কয়েকজন যুবক বোতল দিয়ে সারজিসের গাড়িতে ঢিল ছুড়ে মারেন। কেউ কেউ পাথরও ছুড়ে মারেন। এতে সারজিসের গাড়ির পেছনের কাঁচের গ্লাস ভেঙে যায়। ঘটনার পর সারজিস সহ বহরে থাকা নেতারা কানাইঘাটে না গিয়ে সিলেটে ফিরে আসেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তবে ইটপাটকেল নিক্ষেপকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। সারজিস এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন। তিনি জানান- সংঘবদ্ধ ছাত্রদলকর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। সিলেট ফেরার পথে পাঁচ মাইল এলাকায়ও দা, রামদা দিয়ে তাদের গাড়িতে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সারজিসের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাজী দিনার আহমদ।

তিনি বলেন- কারা, কোথায় কার ওপর হামলা করলো সেটার দায়ভার ছাত্রদল নিতে পারে না। গোলাপগঞ্জের ওই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি। গোলাপগঞ্জের ওসি ছবেদ আলী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- গাড়িবহরে কারা হামলা করেছে তার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যারা জড়িত রয়েছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। গোলাপগঞ্জের ঘটনার পর বিকালে সিলেট থেকে দরবস্ত হয়ে কানাইঘাটে যান এনসিপি নেতারা। সেখানে তারা নির্ধারিত পদযাত্রা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তবে এনসিপি’র পদযাত্রার সমাবেশের আগে বিকালে কানাইঘাটে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। এ সময় তারা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বাদ দিয়ে সুস্থধারার রাজনীতি করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। ছাত্রদলের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কানাইঘাট শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়। কড়া নিরাপত্তায় কানাইঘাট পৌর শহরে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে এনসিপি’র গাড়িবহরে হামলার পর এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন- ‘সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা দেখছি, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে দেশকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকার যদি সন্ত্রাসের পথে হাঁটে জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।’ নাহিদ বলেন- ‘সরকার কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটুক সেটি চাচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, একই কায়দায় এখন আমাদের গাড়িবহরেও হামলা করা হচ্ছে।’

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আরও পড়ুন:
সংখ্যা রহস্য

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, হবিগঞ্জে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও আহতের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১০০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এনসিপি। এনসিপি’র জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেলকে বাদী করে বুধবার রাতে বাহুবল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ সুপারের কাছে মামলার এজাহার দেন কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতারা। পরে গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি এফআইআর করা হয়।

এদিকে এনসিপি নেতাদের উপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও এনসিপি’র পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এনসিপি’র দায়ের করা মামলায় বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা আশরাফুজ্জআমান রিয়াজ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন, ছাত্রদল নেতা মুজাক্কিম হোসেন ইমন, ছাত্রদল নেতা এমএইচ শিমুল, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা আল সাইমুন, জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা ইসতিয়াক রহমান ইসতি, ছাত্রদল নেতা শেখ সাব্বির, ছাত্রদল নেতা নাজমুল হোসেন অভি এবং ছাত্রদল নেতা রক্সি ইসলাম-এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯শে জুলাই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যার চেষ্টা, মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এবং মালামাল ছিনিয়ে নেয়া হয়। মামলায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং ৫০ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জের পথসভা শেষে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে হবিগঞ্জ। হামলার প্রতিবাদে গত বুধবার বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় এনসিপি। একইদিন তারেক রহমানকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে ছাত্রদল ও যুবদলও কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এরপরও এনসিপি সমাবেশের চেষ্টা করে।

গত বুধবার বিকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সীমান্তের সাতগাঁও এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে ব্যারিকেড ভেঙে তারা হবিগঞ্জের সীমানায় প্রবেশ করলে বাহুবলের আমতলী এলাকায় পুলিশ আবারও ব্যারিকেড দেয়। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে জেলা শহরে ঢুকতে না পেরে বাহুবল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলার এজাহার দায়ের করে তারা মৌলভীবাজার ফেরত যান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন