বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে ব্যস্ত সূচিতে প্রবেশ করবে অস্ট্রেলিয়া। ঘরের মাঠে টাইগারদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত ও ইংল্যান্ড সফর করবে অজিরা। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। এই ব্যস্ত সূচিতে চোটের কথা মাথায় রেখে পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজম্যান্ট বিবেচনা করে খেলাতে চায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সেই লক্ষ্যেই দেশটির পেসাররা তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর সাদা পোশাকে হ্যাজলউডকে দেখা যায়নি। হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটে সবশেষ অ্যাশেজের স্কোয়াডে ছিলেন না ৩৫ বছর বয়সী এ পেসার। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পেলে ১৩ মাস পর সাদা পোশাকে দেখা যাবে হ্যাজলউডকে। ২০১৪ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এত লম্বা সময় দলের বাইরে ছিলেন না তিনি। ব্রিসবেন ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুশীলন করছেন হ্যাজলউড।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘আমি এটিকে ব্যস্ত সূচির শুধু শুরু হিসেবে দেখছি। তার বাইরে কিছু নয়। খেলাধুলায় বেশি দূর তাকালেই বিপদ হয়ে যায়। তাই আমি সবসময় এভাবেই ভেবেছি- দিন গুনেছি, দিনে দিনে। বাকি সবকিছু এখনো অনেক দূরে।’ সামনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভাবতে চান না হ্যাজলউড। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি শুধু প্রতিদিনের লক্ষ্য পূরণেই মনোযোগ দিচ্ছি। দিনের কাজ শেষ করা, প্রয়োজনীয় ওয়ার্কলোড ধরে রাখা। সামনের সপ্তাহেও এই ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। সবকিছু ঠিকঠাক শেষ করার পরই ডারউইন টেস্ট নিয়ে ভাববো।’ অস্ট্রেলিয়া যদি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলে তবে এই মৌসুমে তারা ২১টি টেস্ট খেলবে। এই দীর্ঘ পথে কোনো পেসারের চোটমুক্ত থাকা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেন হ্যাজলউড।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এমন কোনো বোলার থাকবে, যে প্রতিটি টেস্ট খেলবে। এমন সময় আসবেই, যখন একজন বোলার একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কিংবা দুজন বোলারই একসঙ্গে ক্লান্ত হয়ে যাবে। ভারতের সিরিজেও দুই পেসার নিয়ে, এমনকি মাঝেমধ্যে একজন পেসার আর একজন অলরাউন্ডার নিয়েও খেলার সুযোগ থাকে। ফলে কাউকে কাউকে বিশ্রাম দেয়ার সুযোগ থাকছে।’ এবারের প্রস্তুতি সরাসরি টেস্ট ক্রিকেটের চাহিদা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে বলে জানান তিনি। হ্যাজলউড বলেন, ‘এবারের প্রস্তুতিটা মূলত টেস্ট ম্যাচকে মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে, যেটা ভালো কাজে দেবে বলেই মনে হয়। আমরা মূলত টেস্ট ক্রিকেটের একটা পুরো দিনের অনুশীলনটাই পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা করছি। একদিনে একাধিক স্পেল করা, টানা কয়েক দিন বোলিং করা। অন্য সিরিজের আগে আমাদের টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে খেলতে হয়, ভ্রমণ করতে হয়। তখন এভাবে বোলিং সেশন সাজানো কঠিন হয়ে যায়।’
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, হ্যাজলউড ও বোল্যান্ডকে নিয়ে গড়া মূল পেস আক্রমণের পাশাপাশি মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেটও অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা পেতে প্রস্তুত। হ্যাজলউডের মতে, এই বোলিং গভীরতা কঠিন সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভরসা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগামী প্রায় ১৮ মাসে আমাদের ছয়জনকেই কোনো না কোনো সময় দরকার পড়বে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর যা হয়েছে, সেটাই তো সব বলে দেয়। প্যাট মাত্র একটা টেস্ট খেলেছিল, আমি একটাও খেলিনি, তখন নেস আর ডগি এসে যখন দরকার হয়েছে ঠিক তখনই দায়িত্ব নিয়েছে, আর আমরা সিরিজ জিতেছি। এটাই তো সবকিছু বলে দেয়।’ আগামী ১৩ই আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্ট দিয়েই মূলত অস্ট্রেলিয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হবে। সেই টেস্টের একাদশে জায়গা পেলে প্রায় ১৩ মাস পর সাদা পোশাকে দেখা যাবে ৩৫ বছর বয়সী হ্যাজলউডকে। পাশাপাশি টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র পাঁচ উইকেট দূরে থাকা এই পেসারের সামনে সুযোগ থাকছে ডেনিস লিলি, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের পাশে নাম লেখানোর।
